ভোটের বঙ্গে নাজেহাল অবস্থা। একদিকে নেতা, কর্মীদের প্রচারের ব্যস্ততা। অন্যদিকে বৈশাখী গরমের দাপট। আকাশ থেকে যেন আগুনের ফুলকি ঝরছে। বাইরে পা রাখলেই গরম হাওয়া। আর কড়া রোদ। মুহূর্তেই পুড়িয়ে দিচ্ছে গায়ের চামড়া। এই প্যাচপ্যাচে গরমে ঘাম আর ধুলোবালির দাপট। ত্বকের বারোটা বাজছে সহজেই। ডিহাইড্রেশন তো আছেই। সেইসঙ্গে দোসর হচ্ছে র্যাশ, ব্রণ আর ট্যান। কিন্তু তাই বলে তো আর ঘরে বসে থাকা সম্ভব নয়। তবে এই তীব্র দহনকালে প্রয়োজন সামান্য কিছু সতর্কতা। তাহলেই দিব্বি ঠান্ডা থাকবে ত্বক।
ফাইল ছবি
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময়ে ত্বকের সবচেয়ে বড় শত্রু হল সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি। তাই বাইরে বেরোনোর অন্তত মিনিট ২০ আগে ভালো মানের সানস্ক্রিন মাখা বাধ্যতামূলক। আপনি দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকলে প্রতি দুই থেকে তিন ঘণ্টা অন্তর পুনরায় সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। মনে রাখবেন, কেবল দামি প্রসাধন মাখলেই হবে না, ত্বককে ভেতর থেকে সজীব রাখতে পর্যাপ্ত জল পানের কোনও বিকল্প নেই। দিনে অন্তত আট থেকে দশ গ্লাস জল খাওয়ার পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় রাখুন তরমুজ, শসা বা কমলার মতো তরল সমৃদ্ধ ফল। এতে শরীর যেমন ঠান্ডা থাকবে, তেমনই ত্বকের আর্দ্রতাও বজায় থাকবে।
ফাইল ছবি
গরমে ত্বক ভালো রাখার কিছু সহজ পাঠ
• পরিচ্ছন্নতা: বাইরে থেকে ফিরে হালকা কোনও ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। এতে ত্বকে জমে থাকা তেল ও ঘাম পরিষ্কার হবে। তবে খুব কড়া সাবান ব্যবহার করবেন না, তাতে ত্বক খসখসে হয়ে যেতে পারে।
• আর্দ্রতা: অনেকে মনে করেন গরমে ময়েশ্চারাইজার মাখার দরকার নেই। এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। ত্বকের নমনীয়তা ধরে রাখতে হালকা বা ওয়াটার-বেসড ময়েশ্চারাইজার নিয়মিত ব্যবহার করুন।
• প্রাকৃতিক প্রলেপ: রোদে ত্বকের জ্বালা ভাব বা লালচে দাগ কমাতে অ্যালোভেরা জেল বা শসার রস ম্যাজিকের মতো কাজ করে। এটি ত্বককে তৎক্ষণাৎ শীতল করে।
• সুরক্ষাকবচ: বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৩টে পর্যন্ত রোদ সবচেয়ে কড়া থাকে। এই সময়ে ছাতা, টুপি আর সানগ্লাস ছাড়া বাইরে না বেরোনোই ভালো।
ফাইল ছবি
ত্বকের জেল্লা কেবল বাইরে থেকে আসে না, তার জন্য প্রয়োজন সঠিক খাদ্যাভ্যাসও। সবুজ শাকসবজি আর ভিটামিন সি যুক্ত ফল আপনার ত্বকের পরম বন্ধু। এই বৈশাখের দাবদাহে নিজেকে সুস্থ রাখতে এবং আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের সতেজ রূপ ফিরে পেতে আজ থেকেই শুরু হোক এই ঘরোয়া রূপটান। সামান্য সচেতনতাই হতে পারে আপনার এই গ্রীষ্মের সেরা প্রসাধন।
