shono
Advertisement
Tattoo Removal

হুজুগে ট্যাটু তো হল, এবার মুছতে গিয়ে চামড়া পোড়াবেন নাকি! জানুন সঠিক উপায়

ফ্যাশনের খাতিরে ট্যাটু করানো যতটা সহজ, তোলা ততটা নয়। তাই সস্তার টোটকায় বিশ্বাস করে নিজের ক্ষতি করবেন না।
Published By: Buddhadeb HalderPosted: 07:04 PM Jan 19, 2026Updated: 08:17 PM Jan 19, 2026

এক সময় হয়তো হুজুগে পড়ে শরীরে খোদাই করেছিলেন প্রিয় মানুষের নাম। কিংবা পছন্দের কোনও নকশা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই স্থায়ী ছবিই এখন মাথাব্যথার কারণ। সময়ের সঙ্গে ফ্যাশন বদলায়, রুচিও বদলায়। তাই এখন অনেকেই চাইছেন পুরনো ট্যাটু মুছে ফেলতে। কিন্তু লেজার ট্রিটমেন্টের খরচ বা ভয়ে অনেকেই ঝুঁকছেন ঘরোয়া টোটকার দিকে। আর এখানেই লুকিয়ে রয়েছে মহাবিপদ।

Advertisement

ঘরোয়া টোটকা কি আদৌ কাজ করে?
ইন্টারনেট খুঁজলেই মেলে নুন-লেবু ঘষা কিংবা স্যান্ডপেপার দিয়ে ত্বক ঘষে ট্যাটু তোলার নিদান। চিকিৎসকরা স্পষ্ট জানাচ্ছেন, এসব পদ্ধতি শুধু যে অকার্যকর তাই নয়, একই সঙ্গে মারাত্মক ক্ষতিকর। ট্যাটুর কালি থাকে ত্বকের গভীর স্তর বা ডার্মিসে। নুন বা লেবুর রস সেই গভীরতা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। উল্টে অ্যাসিডের বিক্রিয়ায় চামড়া পুড়ে ক্ষত তৈরি হয়। স্যান্ডপেপার ব্যবহার করলে রক্তপাত এবং ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে ১০০ শতাংশ। এমনকী পারক্সাইড বা বাজারচলতি রিমুভাল ক্রিম ব্যবহারের ফলে অ্যালার্জি ও কেমিক্যাল বার্ন হওয়ার উদাহরণও প্রচুর।

বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
ইন্ডিয়ান জার্নাল অফ ডার্মাটোলজি-তে প্রকাশিত তথ্য মতে, ঘরোয়া উপায়ে ট্যাটু তুলতে গেলে কালির দাগ পুরোপুরি যায় না। উল্টে ত্বকে স্থায়ী ক্ষত বা স্কারিং তৈরি হয়। আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ ডার্মাটোলজির মতে, নিজে নিজে এক্সপেরিমেন্ট করতে গিয়ে অনেকে ত্বকের ক্যানসার বা গভীর সংক্রমণের ঝুঁকি ডেকে আনেন। বোর্ড সার্টিফায়েড ডার্মাটোলজিস্টদের মতে, ট্যাটু রিমুভালের একমাত্র বিজ্ঞানসম্মত ও নিরাপদ উপায় হল ‘লেজার ট্রিটমেন্ট’।

নিরাপদ পথ কোনটি?
আধুনিক লেজার পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট তরঙ্গের আলো ব্যবহার করে কালির কণাগুলিকে ক্ষুদ্র অংশে ভেঙে ফেলা হয়। যা পরবর্তীতে শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বিলীন হয়ে যায়। এটি সময়সাপেক্ষ হলেও ত্বকের ক্ষতি করে না। তবে ট্যাটুর রং ও গভীরতা ভেদে একাধিক সেশনের প্রয়োজন হতে পারে।

ফ্যাশনের খাতিরে ট্যাটু করানো যতটা সহজ, তোলা ততটা নয়। তাই সস্তার টোটকায় বিশ্বাস করে নিজের ক্ষতি করবেন না। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তবেই এ পথে পা বাড়ানো বুদ্ধিমানের কাজ। মনে রাখবেন, দাগহীন ত্বকই আসল ফ্যাশন।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement