বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য, শিলিগুড়ি: নিত্যনতুন স্টাইলে তাক লাগাতে কার না মন চায়? চাইলে তো আর হবে না। ফ্যাশন বদলাতে মনমতো জিনিসপত্র তো চাই। পাটের গয়না, ব্যাগ ক্লিশে হয়ে গিয়েছে? তাহলে আপনার জন্য রয়েছে জুতো, কার্পেট, পুতুল, আরও কত কী! পাট থেকে তৈরি পরিবেশবান্ধব হরেক সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে শিলিগুড়ি শহর সংলগ্ন সিটি সেন্টারে চলছে জুট ফেয়ার। আয়োজক 'ন্যাশনাল জুট বোর্ড'। সেই মেলায় এসে মনের মতো ফ্যাশন সামগ্রীটি কিনে ফেলুন নিজেকে সাজাতে অথবা ঘর সাজাতে।
ন্যাশনাল জুট বোর্ডের আধিকারিক রিজওয়ানুজ জামান জানান, গত বছর মেলায় ২০টি স্টল ছিল। এবার স্টলের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২২টি। এবার উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হুগলি, বর্ধমান, দার্জিলিং জেলা থেকে স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও শিল্পীরা মেলায় স্টল দিয়েছেন। পাশাপাশি বিহার ও উত্তরপ্রদেশের স্টলও রয়েছে। গত বছর মেলার স্টলগুলিতে গড়ে এক লক্ষ টাকা ব্যবসা করেছিল। এবার ব্যবসা আরও বাড়বে বলেই আশা তাঁর।

জুট বোর্ড সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩-২০২৪ অর্থবর্ষে রেকর্ড পরিমাণ পাটজাত দ্রব্য বিদেশে রপ্তানি হয়েছে। ২০১৯-২০২০ অর্থবর্ষের তুলনায় তা ১৬ শতাংশ বেশি। স্টলগুলিতে পাটজাত সামগ্রী ছাড়া অন্য কিছু নেই। পাটের তৈরি জুতো, কার্পেট, শোপিস, ওয়াল হ্যাংগার, লাগেজ ও ল্যাপটপ ব্যাগ, মহিলা ও পুরুষদের পার্স, ঘর সাজানোর পুতুল যেমন পাবেন, তেমনই পাবেন মেয়েদের সাজসজ্জার সামগ্রীও। কানের দুল, গলার হার, চুড়ি ইত্যাদি সামগ্রীতে ভরা বিভিন্ন স্টল দেখলে চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়ার উপক্রম।
শিলিগুড়ির সিটি সেন্টারে জুট ফেয়ারে ক্রেতাদের ভিড়। নিজস্ব ছবি।
জাতীয় জুট বোর্ডের আধিকারিক জানান, দেশে পাটজাত দ্রব্যের উৎপাদন বেড়েছে। বিশেষ করে পরিবেশবান্ধব লাইফ স্টাইল সামগ্রী তৈরি হচ্ছে। রপ্তানিও বেড়েছে। পাট থেকে পরিবেশবান্ধব দ্রব্য উৎপাদন, প্রদর্শনী ও বাণিজ্যের উপরে জোর দিয়েছে কেন্দ্রের টেক্সটাইল মন্ত্রক। এজন্য দেশের অন্য প্রান্তের মতো ৬ বছর ধরে শিলিগুড়িতে জুট ফেয়ার করা হচ্ছে। এবার মেলা সপ্তম বর্ষে পড়ল। তো এই মেলা থেকেই নিজের পছন্দের সামগ্রী সংগ্রহ করুন। মনে রাখবেন, খুব বেশি সময় নেই কিন্তু। ৩ এপ্রিল পর্যন্ত সিটি সেন্টারে চলবে জুট ফেয়ার। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে চলে আসুন মেলায়।