আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিখুঁত সাজ। নামী ব্র্যান্ডের ফাউন্ডেশন, কনসিলার আর মনমাতানো লিপস্টিক। কিন্তু আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই কপালে উঁকি দিচ্ছে অবাধ্য ব্রণ? চিকিৎসকদের মতে, এর নাম ‘অ্যাকনি কসমেটিকা’। আপনার সাধের মেকআপই হয়ে উঠতে পারে আপনার ত্বকের প্রধান শত্রু।
তবে কেবল মেকআপ ব্যবহারের দোষ নয়, আমাদের কিছু অভ্যাসও এই সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, মেকআপ না তুলে রাতে ঘুমানো সবচেয়ে বড় ভুল। এছাড়া নোংরা ব্রাশ বা স্পঞ্জ ব্যবহার করলে ব্যাক্টেরিয়া সরাসরি ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে। অনেক সময় আবার বিজ্ঞাপনের চটক দেখে আমরা ঘনঘন মেকআপ ব্র্যান্ড বদলাই। আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ ডার্মাটোলজি বলছে, একটি নতুন ব্র্যান্ডের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ত্বকের অন্তত ২ থেকে ৪ সপ্তাহ সময় লাগে। তার আগেই ব্র্যান্ড বদলে ফেললে ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর বা ‘স্কিন ব্যারিয়ার’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
১. সবসময় ‘নন-কমেডোজেনিক’, ‘অয়েল ফ্রি’ এবং সুগন্ধীহীন প্রোডাক্ট বেছে নিন।
২. সপ্তাহে অন্তত দু’বার মেকআপ ব্রাশ ও স্পঞ্জ মাইল্ড সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
৩. একসঙ্গে অনেক নতুন ব্র্যান্ডের মেকআপ ব্যবহার করবেন না। ত্বককে মানিয়ে নেওয়ার সময় দিন।
৪. দিনে অন্তত দু’বার ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন। শোয়ার আগে মেকআপ তোলা বাধ্যতামূলক।
মেকআপ মানেই সৌন্দর্য বৃদ্ধি, কিন্তু সচেতন না হলে এই সৌন্দর্যই হতে পারে দুঃস্বপ্নের কারণ। তাই দামী মেকআপ কিট কেনার আগে একবার উপাদানগুলো দেখে নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, উজ্জ্বল ত্বকের মূল চাবিকাঠি দামী প্রসাধন নয়, বরং সঠিক পরিচ্ছন্নতা।
