রঙের উৎসব প্রায় শেষ। কিন্তু শেষ হয়েও হইল না 'শেষ'। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে অনেকেরই মন খারাপ। গাল, নাক বা থুতনির চারপাশে উঁকি দিচ্ছে লালচে ব্রণ! বাজারচলতি আবির ও রঙে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সিসা বা পারদের মতো ক্ষতিকর ধাতু মেশানো থাকে। এই রাসায়নিক ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কেড়ে নিয়ে তাকে রুক্ষ ও প্রাণহীন করে তোলে। ফলে সংবেদনশীল ত্বকে দ্রুত ব্রণের সংক্রমণ দেখা দেয়। তবে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। দামি কসমেটিকস নয়, হেঁশেলের সাধারণ কিছু উপকরণের সঠিক ব্যবহারেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। কীভাবে? জানুন উপায়।
ফাইল ছবি
নিমপাতা, মধু ও দারচিনির প্যাক
ত্বকের চিকিৎসকেরা বলছেন, দোল-পরবর্তী ত্বকের যত্নে নিমপাতা ও মধু এক অব্যর্থ দাওয়াই। নিমে থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান আর ভিটামিন-ই ত্বকের গভীর থেকে ময়লা সাফ করে। কয়েকটি নিমপাতা বেটে তার সঙ্গে দু’চামচ মধু ও এক চিমটি দারচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে রাখুন। মিনিট দশেক পর ধুয়ে ফেললে তফাতটা নিজেই বুঝতে পারবেন। এটি শুধু ব্রণই সারায় না, ত্বকের জেল্লাও ফিরিয়ে আনে।
ছবি: সংগৃহীত
মুলতানি মাটি ও অ্যাপল সাইডার ভিনিগারের প্যাক
যাঁদের ত্বক তৈলাক্ত, তাঁদের জন্য মুলতানি মাটি ও অ্যাপল সাইডার ভিনিগারের প্যাক দারুণ কার্যকরী। এই মিশ্রণটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল শুষে নেয় এবং কোলাজেনের মাত্রা বাড়িয়ে ত্বককে টানটান রাখে। এক চামচ মুলতানি মাটির সঙ্গে দুই চামচ ভিনিগার মিশিয়ে ১৫-২০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। হালকা গরম জলে মুখ ধুয়ে নিলেই মিলবে স্বস্তি।
ছবি সংগৃহীত
নিম-অ্যালো ভেরা প্যাক
এছাড়াও নিম গুঁড়োর সঙ্গে অ্যালো ভেরা জেল মিশিয়ে আরও একটি বিশেষ প্যাক তৈরি করা যায়। এর নিয়মিত ব্যবহারে ব্রণের দাগও হালকা হয়ে যায়। তবে মনে রাখবেন, রং তোলার পর ত্বক খুব কোমল থাকে, তাই এই সময় স্ক্রাবার বা কড়া রাসায়নিক সাবান ব্যবহার না করাই ভালো। ঘরোয়া এই প্যাকগুলি সপ্তাহে অন্তত তিন দিন ব্যবহার করলে ত্বকের হারিয়ে যাওয়া লাবণ্য ফিরে আসবে দ্রুত। সুতরাং, ব্রণের ভয়ে উৎসবের দিন মন খারাপ করে ঘরে বসে থাকার কোনও কারণ নেই। সঠিক সুরক্ষাই আপনার ত্বককে রাখবে সতেজ ও উজ্জ্বল।
