কলা খেতে বেশ ভালো। তবে খোসাটি ছুঁড়ে ফেলার আগে থামুন। খামোকা ডাস্টবিনে ফেলে কী লাভ? ফলের এই অবহেলিত অংশই আপনার চুলের ভোল বদলে দিতে পারে। সামান্য পরিশ্রমে বাড়িতেই তৈরি করে নিতে পারেন বিশেষ হেয়ার প্যাক। নামীদামি প্রসাধনীর প্রয়োজন নেই। এই ঘরোয়া হেয়ারপ্যাক বাড়িতে বানিয়েই আপনি শুষ্ক-রুক্ষ চুলের হাল ফেরাতে পারেন নিমেষে। কীভাবে? জানুন।
ফাইল ছবি
কলার খোসা খনিজ আর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে ঠাসা। এতে রয়েছে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালশিয়াম এবং ভিটামিন বি ৬ ও সি। এ ছাড়াও ওমেগা ৩ ও ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিড চুলের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। কলার খোসার লুটেইন নামক উপাদান মাথার ত্বকের সুরক্ষা দেয়। এই সমস্ত পুষ্টিগুণ যখন সরাসরি চুলের গোড়ায় পৌঁছয়, তখন চুলের জেল্লা ফিরে পাওয়া সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
ফাইল ছবি
কীভাবে বানাবেন হেয়ার প্যাক?
চুলের যত্নে কলার খোসা ব্যবহারের প্রথম ধাপ হল এর মিহি গুঁড়ো তৈরি করা। ৪-৫টি কলার খোসা নিয়ে কড়া রোদে বেশ কয়েক ঘণ্টা শুকিয়ে নিতে হবে। রোদ না থাকলে মাইক্রোওয়েভ ওভেন ব্যবহার করতে পারেন। ২১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ২০ মিনিট বেক করে নিলেই খোসাগুলো মচমচে হয়ে যাবে। এরপর মিক্সার গ্রাইন্ডারে দিয়ে ভালো করে পিষে নিন। দলা পাকিয়ে থাকলে ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে মিহি পাউডার আলাদা করে নিন। এই গুঁড়ো অনেক দিন সংরক্ষণ করা যায়।
প্যাক তৈরির নিয়ম
এক বাটি টাটকা টক দইয়ের সঙ্গে ১-২ চা চামচ মধু মেশান। এর সঙ্গে যোগ করুন তৈরি করে রাখা কলার খোসার গুঁড়ো। মিশ্রণটি ভালো করে ফেটিয়ে একটি ঘন প্যাক তৈরি করুন। দই চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখে আর মধু প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে।
ফাইল ছবি
এভাবে ব্যবহার করুন
চুল হালকা ভিজিয়ে নিয়ে এই প্যাক ব্যবহার করতে হয়। চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত ধীরে ধীরে প্রলেপ লাগান। পুরো মাথায় লাগানো হয়ে গেলে একটি শাওয়ার ক্যাপ পরে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর কোনও মৃদু বা হার্বাল শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুয়ে নিন। সপ্তাহে অন্তত এক দিন এই নিয়ম মানলে তফাত চোখে পড়বে কয়েক দিনেই। নিয়মিত ব্যবহারে চুলের গোড়া মজবুত হবে, জট কমবে এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করবে। খরচ বাঁচিয়ে ঘরোয়া উপায়ে এমন রূপটান সত্যিই বিরল।
