বয়স বাড়ছে, কিন্তু আয়নায় তার ছাপ পড়ুক তা কে-ই বা চায়! চিরতরুণ থাকতে ফি-বছর পাল্টে যায় রূপচর্চার ধরণ। এনজাইম স্ক্রাব থেকে ফেস রোলার— তালিকার শেষ নেই। সোশাল মিডিয়ার হাত ধরে সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল ‘ফেশিয়াল ড্রাই ব্রাশিং’। নেটিজেনদের দাবি, এটিই দেবে কাঙ্ক্ষিত শার্প জ-লাইন আর মুহূর্তের জেল্লা।
পদ্ধতিটি আসলে কী? সহজ কথায়, একটি বিশেষ নরম ও শুকনো ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার ত্বকে আলতো করে ঘষাই হল ড্রাই ব্রাশিং। এতে কোনও জল বা ক্রিমের প্রয়োজন পড়ে না। ব্রাশটি চালাতে হয় নিচ থেকে উপরের দিকে এবং ভিতর থেকে বাইরের দিকে। ত্বকের মৃত কোষ সরিয়ে জেল্লা ফেরানোই এর মূল কাজ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মূলত ত্বকের এক্সফোলিয়েশন ও রক্ত সঞ্চালনের জন্য ব্যবহৃত হয়।
অনেকের ধারণা এটি জ-লাইনকে আমূল বদলে দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর ফলে ত্বকের ফোলাভাব বা পাফিনেস কমে। এতে সাময়িকভাবে জ-লাইন কিছুটা স্পষ্ট দেখায় ঠিকই, কিন্তু স্থায়ী বদল আসে না। লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ বা লসিকা প্রবাহে সাহায্য করার ফলে মুখ আগের থেকে বেশি টানটান ও উজ্জ্বল দেখায়। প্রাকৃতিক পদ্ধতি হওয়ায় এতে কৃত্রিম রাসায়নিকের ভয় নেই।
সব ট্রেন্ডই সবার জন্য নয়। রুক্ষ ব্রাশ বা অতিরিক্ত চাপ ত্বকের নমনীয়তা নষ্ট করতে পারে। সংবেদনশীল ত্বকে লালচে ভাব বা জ্বালা হতে পারে। বিশেষ করে ব্রণ, একজিমা বা রোসেসিয়া থাকলে এই পদ্ধতি থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়। অপরিষ্কার ব্রাশ ব্যবহারে ত্বকে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
সঠিক নিয়ম:
১. শুধুমাত্র মুখের জন্য তৈরি নরম ব্রাশ ব্যবহার করুন।
২. পরিষ্কার ও শুকনো ত্বকে ১-২ মিনিট আলতো স্ট্রোক দিন।
৩. চোখের চারপাশ এড়িয়ে চলুন।
৪. সপ্তাহে ২-৩ বারের বেশি করবেন না।
৫. শেষে মুখ ধুয়ে ভালো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
সাশ্রয়ী ও প্রাকৃতিক উপায়ে উজ্জ্বলতা পেতে ড্রাই ব্রাশিং কার্যকর হতে পারে। তবে আপনার ত্বকের প্রকৃতি বুঝে তবেই এই পথে হাঁটা বুদ্ধিমানের কাজ।
