সকাল থেকে রাত— আঙুলের ডগায় স্ক্রল করাই এখনকার দস্তুর। কর্মক্ষেত্র হোক বা অবসর, ল্যাপটপ আর স্মার্টফোন ছাড়া এক মুহূর্ত চলে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অত্যধিক স্ক্রিন টাইম কেবল চোখের ক্ষতি করছে না, অজান্তেই কেড়ে নিচ্ছে ত্বকের স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য। বর্তমান প্রজন্মের লাইফস্টাইল ডিজিজের তালিকায় এবার নয়া সংযোজন 'ডিজিটাল এজিং'। দীর্ঘক্ষণ গ্যাজেটের সামনে বসে থাকার ফলে ত্বকের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা অনেক সময় সাধারণ প্রসাধনীতেও সারছে না।
ফাইল ছবি
ত্বকে কীভাবে প্রভাব ফেলছে?
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মোবাইল বা ল্যাপটপ থেকে নির্গত নীল আলো বা 'ব্লু লাইট' ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে কোষের গঠন নষ্ট করে দেয়। এর সরাসরি প্রভাবে ত্বকে কোলাজেন উৎপাদন ব্যাহত হয়। কোলাজেন কমে গেলে ত্বক শিথিল হয়ে পড়ে এবং অকালেই বলিরেখা দেখা দেয়। শুধু তাই নয়, ব্রণ বা সোরিয়াসিসের মতো সমস্যা থাকলে স্ক্রিন টাইমের প্রভাবে তা আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিনের সামনে বসে থাকলে হাইপারপিগমেনটেশনের সমস্যাও বাড়ে। চোখের চারপাশে কালচে ছোপ বা ডার্ক সার্কেল হওয়ার অন্যতম কারণ এই ফটো এজিং। অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের ফলে ত্বক তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারায়। ফলে চামড়া ফ্যাকাসে ও নিস্তেজ দেখায়। এমনকী ত্বকের টেক্সচারও বদলে যেতে শুরু করে।
ফাইল ছবি
রেহাই মিলবে কীভাবে?
ত্বকের এই বেহাল দশা রুখতে চাইলে সবার আগে পর্দার সামনে কাটানো সময় কমাতে হবে। পেশাগত কারণে যদি দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে থাকতেই হয়, তবে প্রতি আধ ঘণ্টা অন্তর বিরতি নিন। চিকিৎসকদের মতে, কেবল রোদে বেরোলেই নয়, ঘরের ভেতরে ল্যাপটপের সামনে বসার আগেও নিয়ম করে সানস্ক্রিন মাখা জরুরি। সানস্ক্রিন নীল আলোর হাত থেকে ত্বককে সুরক্ষা কবচ দেয়। এছাড়া ফোনে সব সময় 'ডার্ক মোড' বা 'নাইট ফিল্টার' ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। এতে নীল আলোর তীব্রতা কিছুটা হলেও কমে। রাতে শোওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে ফোন দূরে সরিয়ে রাখুন। পাশাপাশি ত্বক হাইড্রেটেড রাখতে প্রচুর পরিমাণে জল এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ খাবার ডায়েটে রাখুন। রাতে ভালো মানের নাইট ক্রিম বা সিরাম ব্যবহার করলে দিনের বেলার ক্ষতি কিছুটা সামাল দেওয়া সম্ভব। মনে রাখবেন, দামী প্রসাধনী মাখার চেয়েও জরুরি হল সচেতনতা। প্রযুক্তির নীল আভা যেন আপনার রূপ কেড়ে না নেয়, সেদিকে নজর রাখা প্রয়োজন।
