বিবাহিত নারীর সাজে সিঁদুর এক অনন্য পূর্ণতা আনে। কপালে লাল সিঁদুরের ছোঁয়ায় যেন ফুটে ওঠে এক স্নিগ্ধ আভা। কারও কাছে এটি নিছক প্রসাধন। আবার কারও কাছে ভালোবাসার পরশ। নিজ আত্মসম্মান। কিন্তু এই সিঁদুরই যদি আপনার দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়? নিয়মিত সিঁদুর ব্যবহারের ফলে সিঁথির অংশের চুল পাতলা হয়ে যাচ্ছে? দিন দিন চওড়া হচ্ছে সিঁথি? বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চুল উঠে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন বহু মহিলা।
ছবি: সংগৃহীত
আসলে বাজারচলতি অধিকাংশ সিঁদুরে মেশানো থাকে সিসা, পারদ এবং নানাবিধ সিন্থেটিক রং। এই রাসায়নিক উপাদানগুলো স্ক্যাল্পের কোষের মারাত্মক ক্ষতি করে। এর ফলে ত্বকে র্যাশ, চুলকানি এবং প্রবল চুল পড়ার সমস্যা দেখা দেয়। দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে অনেক সময় স্ক্যাল্পে স্থায়ী সংক্রমণের ঝুঁকিও থেকে যায়। তবে সিঁদুর পরা বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। সমাধান আপনার হাতের মুঠোতেই। সামান্য পরিশ্রমে বাড়িতেই বানিয়ে নিতে পারেন নিরাপদ হার্বাল সিঁদুর। কীভাবে? জেনে নিন চট করে।
ঘরোয়া পদ্ধতিতে ভেষজ সিঁদুর তৈরির উপায়
বাড়িতে ভেষজ সিঁদুর তৈরি করা অত্যন্ত সহজ এবং সাশ্রয়ী। এর জন্য আপনার প্রয়োজন মাত্র তিনটি উপকরণ— হলুদ গুঁড়ো, স্লেকড লাইম (এক ধরণের চুন) এবং লেবুর রস।
প্রথম ধাপ
দুই টেবিল চামচ হলুদ গুঁড়োর সঙ্গে দুই টেবিল চামচ স্লেকড লাইম পেস্ট ভালো করে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি একটি অন্ধকার জায়গায় টানা পাঁচ দিন রেখে দিন। ধীরে ধীরে মিশ্রণের আর্দ্রতা কমে আসবে এবং এটি উজ্জ্বল কমলা রং ধারণ করবে।
রঙের কারসাজি
বাঙালি মহিলারা সাধারণত গাঢ় লাল সিঁদুর পছন্দ করেন। কমলা মিশ্রণটিকে লাল করতে এতে আধ চামচ পাতিলেবুর রস মিশিয়ে দিন। লেবুর অ্যাসিডিক বিক্রিয়ায় হলুদ ও চুন মিলে চমৎকার লাল রং তৈরি হবে। এরপর আরও ৩-৪ দিন অন্ধকার স্থানে শুকোতে দিন।
ছবি: সংগৃহীত
সংরক্ষণ
খেয়াল রাখবেন, তৈরির সময় যেন অতিরিক্ত জল ব্যবহার না হয়। মিশ্রণটি পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে একটি এয়ারটাইট কৌটোয় ভরে রাখুন। এই সিঁদুর অন্তত দুই থেকে তিন সপ্তাহ নিশ্চিন্তে ব্যবহার করা যায়।
সতর্কবার্তা ও টিপস
প্রাকৃতিক উপাদান হলেও সবার ত্বক সমান নয়। তাই ব্যবহারের আগে অবশ্যই হাতে সামান্য লাগিয়ে প্যাচ টেস্ট করে নিন। সিঁদুর পরার আগে সিঁথিতে সামান্য নারকেল তেল বা ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিলে স্ক্যাল্প সুরক্ষিত থাকে। রাসায়নিকের ভয় কাটিয়ে সুস্থ চুলে ফিরে আসুক আপনার সিঁথির উজ্জ্বলতা।
