শীতের রুক্ষতা কাটিয়ে ত্বকে সজীবতা ফেরাতে প্রসাধনী কেনেন কমবেশি সকলেই। তবে রাসায়নিকের প্রভাবে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির আশঙ্কাও থাকে। তাই বর্তমান প্রজন্মের কাছে ঘরোয়া উপাদানে তৈরি প্রাকৃতিক জিনিসের কদর বাড়ছে। বাজারের দামি ব্র্যান্ডের বদলে এখন বাড়িতে বানিয়ে ফেলা যায় আকর্ষণীয় 'লিপ অ্যান্ড চিক টিন্ট'। এতে ত্বকও থাকে সুরক্ষিত, আবার পকেটও বাঁচে। ঘরোয়া পদ্ধতিতে বানাতে পারেন ফুড কালারিং টিন্ট, বিটরুট টিন্ট কিংবা হিবিকাস টিন্ট।
ফাইল ছবি
বিটরুট টিন্ট: জনপ্রিয়তার নিরিখে বিটরুট বা বিটের টিন্ট সবার উপরে। একটি বিট কুরিয়ে তার রস বের করে কড়াইতে হালকা ফুটিয়ে ঘন করে নিন। রস অর্ধেক হয়ে এলে তাতে অ্যালোভেরা জেল ও আমন্ড অয়েল মিশিয়ে কাচের জারে ভরে রাখুন। আবার গ্লিসারিন ও জলের মিশ্রণে বিটের গুঁড়ো ফুটিয়েও এই টিন্ট তৈরি করা যায়। ফ্রিজে রাখলে এটি অন্তত তিন সপ্তাহ ভালো থাকে। বিটের স্বাভাবিক রং গালে এক অদ্ভুত আভা এনে দেয়।
ফাইল ছবি
ফুড কালারিং টিন্ট: যাঁরা আরও দ্রুত সমাধান চান, তাঁরা ফুড কালার ব্যবহার করতে পারেন। গ্লিসারিন ও কোকো পাউডারের সঙ্গে পেট্রোলিয়াম জেলি ও ভিটামিন-ই ক্যাপসুল মিশিয়ে নিন। এতে কয়েক ফোঁটা লাল ফুড কালার যোগ করে ঠান্ডা হতে দিন। এছাড়া গোলাপ জল ও অ্যালোভেরা জেল হালকা আঁচে বসিয়ে তাতে ক্যাস্টর অয়েল ও ফুড কালার মিশিয়েও চমৎকার টিন্ট তৈরি করা সম্ভব।
ফাইল ছবি
হিবিসকাস টিন্ট: জবা ফুলের জাদুকরী গুণে তৈরি করুন হিবিসকাস টিন্ট। প্রথমে এক টেবিল চামচ গ্লিসারিনের সঙ্গে সামান্য জোজোবা অয়েল মিশিয়ে নিন। এতে জবা ফুলের শুকনো পাপড়ির গুঁড়ো বা নির্যাস যোগ করুন। অল্প শিয়া বাটার মিশিয়ে মিশ্রণটি ফ্রিজে দুই থেকে তিন ঘণ্টা রেখে দিন। এই টিন্ট ঠোঁটের কোমলতা ধরে রাখতে দারুণ কার্যকর।
এই ঘরোয়া টিন্ট ব্যবহারের আগে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে নেওয়া প্রয়োজন। মুখ ধুয়ে হালকা ময়শ্চারাইজার মেখে নিন। এরপর আঙুলের ডগায় সামান্য টিন্ট নিয়ে গাল ও ঠোঁটে আলতো করে মেখে নিন। প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফুটে উঠবে নিমেষেই। প্রাকৃতিক এই স্কিন কেয়ার আপনাকে দেবে এক মায়াবী লুক।
