মুখরোচক খাবার কি আর স্বাস্থ্যকর হতে পারে? না, বোধহয়। সে কারণেই স্বাস্থ্যকর খাবার মাত্রেই তা স্বাদহীন হবে, এমন ধারণা বসে গিয়েছে মানুষের মনে। যে খাবার স্বাদে ভরপুর, তা স্বাস্থ্যের পক্ষে কতটা হীতকর, সে বিষয়ে সন্দেহ রয়ে যায়। ডায়েটেশিয়ানরা কিন্তু বলছেন অন্য কথা। সন্ধান দিচ্ছেন এমন কয়েকটি সহজ স্ন্যাক্স-এর, যা স্বাদে অতুলনীয়। বিশেষত যারা মেদ ঝরানোর চেষ্টা করছেন, চাইলে বানাতেই পারেন এ ধরনের ঝাল-মিষ্টি খাবার (healthy snacks)। এতে মুখের স্বাদও বদলায়, স্বাস্থ্যের ক্ষতিও হয় না।
ঝালমুড়ি ও ভেলপুরি
আহামরি রেসিপির ব্যাপার নেই। বানানোর উপাদানও একেবারেই সহজ। এমনকী দু-একটা উপাদান এদিক ওদিক হলেও মন্দ হয় না। বরং স্বাদে নতুনত্ব পাওয়া যায়। তবে স্বাস্থ্যকর করতে বাদ দিয়ে চলুন শুকনো লঙ্কার গুঁড়ো। বদলে কাঁচা লঙ্কাই একেবারে মিহি কুঁচো করে নিন। কাঁচা লঙ্কায় থাকে ভিটামিন এ, সি, কে। মাত্রাতিরিক্ত না খেলে শরীরের ক্ষতি নেই। বরং হজমে সাহায্য হয়।
ভেলপুরির জন্য মিষ্টি চাটনি বাড়িতেই বানিয়ে নিন। অথবা চাটনির বদলে বেছে নিন বেদানা! ভারতের নানা জায়গায় ভেলপুরি চাটে বেদানা দেওয়া হয়। এই টক-মিষ্টি স্বাদের নতুনত্ব ভালো লাগতে বাধ্য।
ধোকলা
গুজরাতে জন্ম হলেও কলকাতা ও মফঃস্বলে সহজেই পাওয়া যায় এই মুখরোচক খাবার। বানানো যায় বাড়িতেও। নরম ধোকলার উপর ভাপানো কাঁচা লঙ্কা আর তেঁতুলের সিরাপ ভাবলেই জিভে জল আসতে বাধ্য যে কোনও ভোজনরসিকের। বাড়িতে বানালে, এই সিরাপ বানানোর সময় চিনির বদলে ব্যবহার করুন গুড়ের টুকরো।
পোহা
চিঁড়ে, বাদাম, কারিপাতা আর একেবারে সাধারণ কিছু মশলাপাতি থাকলে বাড়িতেই বানানো যায় পোহা। এয়ারফ্রায়ার থাকলে তো কথাই নেই! তেল ছাড়াই তৈরি হয়ে যাবে; সন্ধেবেলা চায়ের সঙ্গে ‘টা’ হিসেবে এমন স্বাদু সঙ্গত বোধহয় আর কিছু হতেই পারবে না।
ভাজা ছোলার চাট
রোস্ট করার পরেও ছোলায় থাকা প্রোটিন ও ফাইবার একেবারে উবে যায় না। শশা, পিঁয়াজ, টমেটো কাঁচা লঙ্কা কুঁচি, ধনেপাতার সঙ্গে সামান্য নুন আর লেবুর রস— মুহূর্তে সাধারণ ছোলা ভাজা হয়ে উঠবে সুস্বাদু স্ন্যাকের রাজা! শরীরের খেয়াল রাখতে গেলে স্বাদ একেবারে বাদ দিতে হবে জীবন থেকে, এ কথা বোধহয় পুরো সত্যি নয়!
স্বাদ ও স্বাস্থ্যের ভারসাম্য রক্ষার এই সহজ সমীকরণ যে কেবল স্ন্যাকের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, তা নয়। কোনও খাবার শরীরের পক্ষে কতটা ভালো, তা নির্ভর করবে কতখানি পরিচ্ছন্ন সামগ্রী দিয়ে তা তৈরি করা হচ্ছে, তার উপর। ফলে যদি সঠিক উপাদান ব্যবহার করা যায়, তবে কোনও খাবারই শরীরের ক্ষতিসাধন করবে না।
