কাঠফাটা রোদ। আর ঘেমেনেয়ে একসা হওয়া ক্লান্তি। বঙ্গজীবনে গ্রীষ্মকাল মানেই একরাশ অস্বস্তি। কিন্তু এই দাবদাহের মধ্যেও বাঙালি হাসিমুখে একটা মরশুম পার করে দিতে পারে শুধু একটি ফলের জোরে। সে হল ফলের রাজা আম। হিমসাগর থেকে ল্যাংড়া, আম্রপালি থেকে ফজলি— গ্রীষ্মের বাজারে এদের গন্ধ পেলেই বাঙালির মন মেতে ওঠে। সকালের জলখাবার থেকে রাতের শেষ পাত, আম না থাকলে যেন দিনটাই মাটি। কিন্তু রসে ভরা এই অমৃতের স্বাদ নিতে গিয়ে অজান্তেই কি আমরা ডেকে আনছি বড় বিপদ? পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে, আমের সঙ্গে কিছু খাবারের রসায়ন একেবারেই সুখকর নয়। রসনাতৃপ্তির চড়া মূল্য চোকাতে হতে পারে শরীরকে।
ফাইল ছবি
দই
আমের এই ‘শত্রু’ তালিকায় প্রথমেই রয়েছে বাঙালির অতি প্রিয় দই। গরমে ঠান্ডা ঠান্ডা দই-আম-চিঁড়ের যুগলবন্দি কার না ভালো লাগে! কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, এই দুইয়ের মেলবন্ধন পেটের বারোটা বাজাতে ওস্তাদ। আম আর দই একসঙ্গে হজম করা শরীরের পক্ষে বেশ কঠিন। ফলে পেট খারাপের ঝুঁকি বাড়ে।
উচ্ছে
একই রকম বিপজ্জনক হতে পারে দুপুরের পাতে উচ্ছে বা করলার পর আম খাওয়া। মুখের তেতো স্বাদ কাটাতে অনেকেই শেষ পাতে আম তুলে নেন। এই অম্ল-মধুর আর তিতোর লড়াই কিন্তু শরীরের অন্দরে মারাত্মক বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে। বমি ভাব, মাথা ঘোরার মতো সমস্যা দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক নয়।
চড়া মশলাদার খাবার
বাঙালির রবিবারের দুপুরের খাসির মাংসের ঝোল বা চড়া তেল-মশলার রান্নার পর আম খাওয়ার অভ্যাসও ত্যাগ করা উচিত। আমের নিজস্ব অ্যাসিড মশলার উপাদানের সঙ্গে বিক্রিয়া করে নিমেষেই গ্যাস-অম্বল আর বদহজমের সমস্যা তৈরি করে।
ফাইল ছবি
কোল্ড ড্রিঙ্কস
আজকাল আম খাওয়ার পর কোল্ড ড্রিঙ্কস খাওয়ার একটা চল হয়েছে। মনে রাখবেন, আম ও কোল্ড ড্রিঙ্কস— দুইয়েই চিনির পরিমাণ আকাশছোঁয়া। একসঙ্গে এই দুটি পেটে গেলে রক্তের শর্করা আচমকা মারাত্মক বেড়ে যেতে পারে।
জল
সবশেষে আসে চিরন্তন নিয়ম। আম খেয়েই ঢকঢক করে জল খাওয়ার ভুলটি করবেন না। ফল খেয়ে জল খেলে বুকজ্বালা ও পেটের গোলমাল অবধারিত। আম খাওয়ার অন্তত আধ ঘণ্টা পর জল পানের অভ্যাস করুন। সুস্থ থেকে আমের স্বাদ উপভোগ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
