শরীরের বাড়তি মেদ ঝরাতেই হবে। তাই ভোল বদলে ফেলেছেন দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের। ভাত, ফাস্ট ফুড, তেলমশলা— সব কিছু বাদ দিয়েছেন এক টানে। কেবলমাত্র কফি খাওয়ার অভ্যেসটি ছাড়তে পারছেন না! নিয়মিত কফি পান করেন যাঁরা, তাঁরা জানেন, কী অদম্য কফির প্রতি এই টান! কিন্তু দুইয়ের মধ্যে বাছতেই হবে কি? ডায়েট কন্ট্রোল করার মাঝে কি একেবারেই জায়গা দেওয়া যাবে না কফিপ্রীতিকে?
অভিজ্ঞ ডায়েটেশিয়ানরা জানাচ্ছেন, চাইলে তাও সম্ভব। রয়েছে কোল্ড কফি বানানোর এমন অনন্য রেসিপি, যা মেনে চললে কফি পানের শখও মিটবে, ডায়েট অমান্য করতেও হবে না। এর জন্য জলের বদলে ব্যবহার করতে হবে ডাবের জল। টাটকা ডাব না পাওয়া গেলে প্যাকেটজাত ডাবের জলও ব্যবহার করা যায়। তবে তাতে স্বাদে ফারাক হতে পারে।
ডায়েট কন্ট্রোল করেও জায়গা দেওয়া যাবে কফি প্রীতিকে
কীভাবে বানাবেন?
গ্লাসে অর্ধেক কাপ ডাবের জল নিয়ে, তাতে কফি গুঁড়ো দিতে হবে। চিনি দেওয়ার প্রশ্নই আসছে না। বদলে সামান্য মধু, গুড় বা স্টিভিয়া দেওয়া যেতে পারে। স্টিভিয়া হল এক বিশেষ গাছের পাতা থেকে তৈরি প্রাকৃতিক ক্যালোরিবিহীন সুগার, যা চিনির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। খেতে পারেন ডায়াবেটিস রোগীরাও।
এরপর ‘মিল্ক ফ্রদার’ যন্ত্রের সাহায্যে তা ঘুঁটে নিলে, ফেনাভাব তৈরি হবে। এর উপর পরিমাণ মতো বরফের টুকরো ঢেলে দিন। তারপর গ্লাসের বাকিটুকু ভর্তি করে দিন ডাবের জল দিয়ে। যদি দুধ-কফি বানাতে চান, তবে অল্প পরিমাণ ডাবের জল ঢালুন। বাকিটুকু ভর্তি করুন লো-ফ্যাট অথবা ডবল-টোনড দুধ দিয়ে। অসামান্য স্বাদের এই কোল্ড কফিতে মন মজবেই!
পুরোপুরি ডাবের জলে বানানো যায়, অথবা লো-ফ্যাট দুধ দিয়েও।
এই পানীয় ক্যাফিনের চাহিদা পূরণ করবে, ফলে হুটপাট ক্রেভিং আসবে না। শরীর ঠান্ডা করার পাশাপাশি গরমের দিনে ভিতর থেকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে ডাবের জল। মেটাবলিজম অক্ষুণ্ণ থাকবে। ফলে এই কফি পান করেই চালিয়ে যাওয়া যাবে ওজন ঝরানোর কঠিন কাজ!
বিশেষত, সকালে ঘুম থেকে উঠেই কফি পান করে দিন শুরু করেন যারা, তাঁরা এই পানীয় বানিয়ে দেখতেই পারেন। জলপানের আগে কফি পান করেন বলে যে বিপদের সম্ভাবনা থেকে যায় তাঁদের ক্ষেত্রে, ডাবের জল তা রোধ করবে। বরং শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করবে।
