দেশের ফুটবল সংস্থার সংবিধান এবং কমার্শিয়াল পার্টনার হিসাবে জিনিয়াস স্পোর্টস নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ২৩ মে স্পেশাল জেনারেল বডির মিটিং ডেকেছিল সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন। কিন্তু তার আগে মোহনবাগান-সহ একাধিক ক্লাব ফেডারেশনকে কড়া বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দেয়, বর্তমান পরিস্থিতি বদল না হলে বর্তমান মরশুমের পর তারা লিগে অংশ নেবে কিনা, তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হবে। এবার দেশের ফুটবল প্রশাসনে পরিকাঠামোগত সংস্কারের পথে বড় পদক্ষেপ নিল এআইএফএফ।
শনিবার কলকাতায় অনুষ্ঠিত স্পেশাল জেনারেল বডি মিটিংয়ে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হল ২০২৫ সালের জাতীয় ক্রীড়ানীতি বা ন্যাশনাল স্পোর্টস গভর্ন্যান্স অ্যাক্ট (এনএসজিএ)। এই সিদ্ধান্তকে ভারতীয় ফুটবলে প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসাবে দেখা হচ্ছে। এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এআইএফএফের ১৯ জন এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য এবং ৩২টি মেম্বার স্টেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের প্রতিনিধিরাও সভায় যোগ দেন।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, মেম্বার অ্যাসোসিয়েশনগুলির জন্য প্রস্তাবিত নতুন সংবিধানের খসড়া শীঘ্রই তাদের কাছে পাঠানো হবে। এই খসড়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে চূড়ান্ত মতামত জানাতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে ১৫ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। ফেডারেশনের তরফে আশা, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আধুনিক প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করা সম্ভব হবে।
বৈঠকে মাস্টার রাইটস এগ্রিমেন্ট (এমআরএ) নিয়েও আলোচনা হয়। এই চুক্তির জন্য ইতিমধ্যেই দু'টি সংস্থা প্রস্তাব জমা দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রস্তাবগুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং বিড প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এক্সিকিউটিভ কমিটিকে পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাবও সর্বসম্মতভাবে অনুমোদিত হয়েছে। তাছাড়া বৈঠক শেষে সুব্রত দত্ত জানালেন, আইএসএলের মিডিয়া রাইটস নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এক্সিকিউটিভ কমিটিতে। যদিও জিনিয়াস স্পোর্টসের ২০০০ কোটির বিনিয়োগ প্রস্তাবও ঝুলে রইল। উল্লেখ্য, এআইএফএফের বাণিজ্যিক পার্টনার, টিভি স্বত্ব ও ডেটা রাইটস পেতে ২০ বছরে ২১২৯ কোটি টাকা দেওয়ার শর্তে টেন্ডার জমা করেছিল জিনিয়াস স্পোর্টস গ্রুপ। এখন দেখার, পরিস্থিতি কোন দিকে যায়।
