shono
Advertisement
AIFF

আইএসএলের জন্য পূর্বঘোষিত ১ কোটি টাকা দিতে নারাজ ক্লাবগুলি, তবু কেন 'ঠুঁটো জগন্নাথ' ফেডারেশন?

দীর্ঘ ১৫ বছরের জন্য কমার্শিয়াল পার্টনার চেয়ে টেন্ডার প্রকাশ করে ফুটবল ফেডারেশন। যে টেন্ডারে অংশ নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে এফএসডিএলকে মৌখিক ভাবে অনুরোধও করেছে ফেডারেশন।
Published By: Subhajit MandalPosted: 04:20 PM Mar 11, 2026Updated: 04:20 PM Mar 11, 2026

ক্লাব প্রতি কেন ১ কোটি টাকা দেওয়া হবে না, এই মর্মে বেশ কড়া চিঠি কিছুদিন আগে ফেডারেশনকে পাঠিয়েছিল ক্লাবগুলি। তবে সেই চিঠিতে সই করেনি নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেড এবং জামশেদপুর এফসি।

Advertisement

পরেও এই চিঠি পাওয়ার ফেডারেশনের তরফে সরকারিভাবে ক্লাবগুলিকে প্রতিবাদ জানিয়ে কিংবা কড়া ভাষায় কোনও জবাব দেওয়া হয়নি। তার মানে ক্লাবগুলি এরকম চিঠি দেওয়ার পর ফেডারেশন কর্তাদের সঙ্গে আইএসএল ক্লাবগুলির কোনও কথা হয়নি, এরকমটা নয়। ফেডারেশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সত্যনারায়ণ মোটামুটি প্রতি সপ্তাহেই ক্লাবগুলির সঙ্গে কথা বলেন। ক্লাবদের তরফে টাকা না দেওয়ার চিঠি পাওয়ার পরেও ফেডারেশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সত্যনারায়ণের সঙ্গে ফোনে কথা হয় সব ক্লাব প্রতিনিধিদের। তাতে যে ক্লাবগুলি ১ কোটি টাকা দেওয়ার জন্য নরম মনোভাবাপন্ন হয়েছে এরকমটা নয়। বরং ফেডারেশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেলকে ক্লাব প্রতিনিধিরা বুঝিয়ে দিয়েছেন, ফেডারেশনের নানাবিধ কাজে তারা অসন্তুষ্ট, তাই তারাও ১ কোটি করে মোট ১৪ কোটি টাকা ফেডারেশনের হাতে তুলে দেবে না। কারণ, ক্লাবরা টাকা দেবে আর শুধুই ফেডারেশন এত সমস্যার মধ্যে লাভ করবে, এরকমটাও হবে না।  

ক্লাবদের এই মনোভাব জানার পরেও ফেডারেশন কেন ক্লাবদের প্রতি কঠিন মনোভাব নিতে পারছে না, তা  নিয়েও ভারতীয় ফুটবলের অন্দরে নানা আলোচনা শোনা যাচ্ছে। কারণ, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে ক্লাবগুলিকে যেভাবে আর্থিক জরিমানা করার কথা বলা হয়েছিল, তা যে শুধুই ফেডারেশনের তরফে হুঙ্কার ছিল, ধীরে ধীরে তা প্রমাণিত হচ্ছে। তবে এই ইস্যুতে ফেডারেশন কর্তাদের আপাতত "স্পিকটি নট" থাকার পিছনেও নানা ব্যাখ্যা শোনা যাচ্ছে। প্রথমত, ফেডারেশনের এখন প্রাথমিক এবং একমাত্র লক্ষ্য, যেভাবেই হোক এই মরশুমের ইন্ডিয়ান সুপার লিগটা শেষ করা। তাতে ক্লাবগুলি নিজেদের জন্য যতই কড়া পদক্ষেপ নিক না কেন, ফেডারেশন কর্তার কোনওমতেই মাথা গরম করতে চাইছেন না। দু'পক্ষের চিঠির লড়াইয়ে শেষপর্যন্ত ক্লাবগুলি যদি আইএসএলের মাঝপথে খেলতে অস্বীকার করে, তাহলে নানা সমস্যায় জর্জরিত ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন আরও সমস্যায় মধ্যে ঢুকে যাবে। তাতে ক্লাবগুলি যদি কোনও টাকা না দিয়েও এই মরশুমটা খেলে নেয়, মাঝে মধ্যে ফোন করে ফেডারেশনের তরফে ক্লাবগুলির কাছে টাকা দেওয়ার অনুরোধ আসতে পারে। কিন্তু লিগ চলাকালীন বিশেষ কোনও পদক্ষেপ নিতে পারবে বলে মনে হচ্ছে না। যার অর্থ, আইএসএল শুরুর আগে ক্লাব প্রতি ১ কোটি করে টাকা দিয়ে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ খেলার কথা ঠিক হলেও, এই মরশুমে মনে হয় না, ক্লাবগুলি ফেডারেশনের হাতে আর কোনও টাকা তুলে দেবে।

এটা তো প্রথম কারণ। দ্বিতীয় কারণ হল, দীর্ঘ ১৫ বছরের জন্য কমার্শিয়াল পার্টনার চেয়ে টেন্ডার প্রকাশ করে ফুটবল ফেডারেশন। যে টেন্ডারে অংশ নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে এফএসডিএলকে মৌখিক ভাবে অনুরোধও করেছে ফেডারেশন। তাতে যে এফএসডিএলের তরফে খুব একটা চিড়ে ভিজেছে, এরকম কোনও খবর নেই। এফএসডিএল তখনই টেন্ডারে অংশ নেবে, যখন টেন্ডার তাদের মনমতো হবে। ফেডারেশনের ঠিক করে দেওয়া পথে তারা চলবে না। ফলে দীর্ঘ ১৫ বছরের জন্য কোনও কর্পোরেট সংস্থা কমার্শিয়াল পার্টনার হতে এগিয়ে আসবে কি না, যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। এমতাবস্থায় ফেডারেশন চাইবে না, আইএসএলের ক্লাবগুলির সঙ্গে কোনও লড়াইয়ে যেতে। কারণ, টেন্ডার প্রকাশের মধ্যে ফেডারেশন যদি তার ক্লাবগুলির সঙ্গে লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে তাহলে, অনেক কর্পোরেট সংস্থাই এই ঝামেলার মধ্যে কমার্শিয়াল পার্টনার হিসেবে এগিয়ে আসতে চাইবে না। তাই ক্লাবগুলির প্রতি বিরক্ত হলেও চুপ করে থাকাই আপাতত স্ট্র্যাটেজি নিয়েছেন ফেডারেশন কর্তারা। ক্লাবদের বিরুদ্ধে যদি কিছু পদক্ষেপ নিতেই হয়, তাহলে সেটা আইএসএল শেষ হওয়ার পর। আপাতত ফেডারেশন তাই স্পিকটি নট।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement