shono
Advertisement
Iranian female footballers

দেশে ফিরলেই মৃত্যুর আশঙ্কা! প্রাণভয়ে অস্ট্রেলিয়ার আশ্রয়ে ইরানের ৭ মহিলা ফুটবলার

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে খেলাধুলার জগতেও। বিশ্বকাপের কোয়ালিফায়ার ম্যাচ পিছিয়ে দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন ইরাকের কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড।
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 04:52 PM Mar 11, 2026Updated: 04:52 PM Mar 11, 2026

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে খেলাধুলার জগতেও। বিশ্বকাপের কোয়ালিফায়ার ম্যাচ পিছিয়ে দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন ইরাকের কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড। অন্যদিকে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রাণভয়ে থাকা ইরানের ৭ মহিলা ফুটবলারকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। 

Advertisement

অস্ট্রেলিয়ায় এশিয়ান কাপ খেলতে গিয়েছিল ইরানের মহিলা দল। এর জন্য ইরানি ফুটবলারদের রাষ্ট্রের রোষে পর্যন্ত পড়তে হয়েছে। আসলে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে নামার আগে জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে গলা মেলাননি কোনও ফুটবলার। দেশে বারুদের গন্ধ। যখন-তখন হামলা করছে আমেরিকা-ইজরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র। মনে করা হচ্ছে, ইরানের বর্তমান শাসকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েই জাতীয় সঙ্গীত ‘বয়কট’ করেছেন মহিলা ফুটবলাররা।

খামেনেইয়ের শাসনকালে ইরানে নারী স্বাধীনতা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। হিজাব বিরোধী আন্দোলনে নেমে নীতি পুলিশের হাতে মহিলা প্রতিবাদীর খুন হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। আমেরিকার অপারেশন ‘সিংহগর্জন’-এ খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর অনেক মহিলাকে আনন্দে উদ্বেল হতে দেখা গিয়েছে। দেশে যখন এই অবস্থা, তখন তেহরান থেকে বহু দূরে অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টে এশিয়ান কাপে নামে ইরানের মহিলা দল। এরপর ইরানের জাতীয় টেলিভিশনে মহিলা ফুটবলারদের ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক’ বলা হয়েছে। সেই কারণেই দেশে ফেরার ব্যাপারে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা।

এই পরিস্থিতিতে ইরানের মহিলা ফুটবল দলের ৭ সদস্য অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় চেয়ে মানবিক ভিসার আবেদন করেন। গত কাল পাঁচ ফুটবলারকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার কথা জানান অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক। আর এদিন ইরান নারী ফুটবল দলের একজন খেলোয়াড় ও এক সাপোর্ট স্টাফকেও আশ্রয় দিল তারা। "ইরানের মহিলা ফুটবলারদের সাহস এবং সংকল্প আমাদের মুগ্ধ করেছে। তাই আমরা তাঁদের সামনে একটা বিকল্পের দরজা খুলে দিয়েছিলাম।" বলেন বার্ক। বার্ক আরও বলেন, "তাঁরা যদি অস্ট্রেলিয়ার মানবিক ভিসা নিতে চান, যা ভবিষ্যতে স্থায়ী ভিসা পাওয়ার পথ তৈরি করবে, তাহলে সেটি দ্রুত কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত ছিল।"

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক নিশ্চিত করেন, বুধবার আরও দুই সদস্য রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছেন। সব মিলিয়ে সাত ইরানি ফুটবলার রয়ে গেলেন অস্ট্রেলিয়ায়। অন্যদিকে, দলের কয়েকজন সদস্য পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে ইরানের পথে অগ্রসর। এখন তাঁরা কুয়ালা লামপুরে পৌঁছেছে।

অস্ট্রেলীয় কর্তারা সিডনি বিমানবন্দরে ইরানের মহিলা ফুটবল দলের বেশিরভাগ সদস্যের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেন। অস্ট্রেলিয়া ছাড়ার আগে ইরান নারী দলের সদস্যদের সামনে সম্ভাব্য বিকল্পগুলো তুলে ধরেন তাঁরা। বিদেশমন্ত্রী পেনি ওং বলেন, "ইরানের জনগণের পাশে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া।" আর এবার অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক নিশ্চিত করেন, বুধবার আরও দুই সদস্য রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছেন। সব মিলিয়ে সাত ইরানি ফুটবলার রয়ে গেলেন অস্ট্রেলিয়ায়। অন্যদিকে, দলের কয়েকজন সদস্য পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে ইরানের পথে অগ্রসর। এখন তাঁরা কুয়ালা লামপুরে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে ইরাকের কোচ বলেছেন, "এই মুহূর্তে ফুটবলারদের ইরাকের বাইরে নিয়ে যাওয়াটাই বিরাট সমস্যা। ফিফা ম্যাচ পিছিয়ে দিলে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাব আমরা। নির্দিষ্ট সূচি অনুযায়ী খেলবে বলিভিয়া এবং সুরিনাম। বিশ্বকাপের ঠিক আগে আগেই আমরা নামব। এটাই আমাদের জন্য সবচেয়ে ভালো বিকল্প হতে পারে। ইরাকের মানুষ ফুটবল ভালোবাসে। চার দশক পর বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলার সুযোগ রয়েছে আমাদের সামনে। সবটুকু দিয়ে আমাদের চেষ্টা করতে হবে। ১৯৮৬ সালে শেষ বার বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলেছিল ইরাক।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement