তাঁর 'অনুমতি' নিয়ে রুশ তেল কেনে গোটা বিশ্ব! এবার ইরানের বিশ্বকাপ খেলা নিয়েও সবুজ সংকেত দিলেন তিনি-ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানান, আমেরিকার মাটিতেই বিশ্বকাপ খেলবে ইরান। তারপরে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতিক্রিয়া জানতে চান জনৈক সাংবাদিক। বেশ খোশমেজাজেই ট্রাম্পের জবাব, তাঁর সঙ্গে এই নিয়ে আলোচনা করেছেন ফিফা সভাপতি।
মার্কিন-ইরান সম্পর্কের টানাপোড়েন কয়েক দশকের পুরনো ইস্যু। এবছর ২৮ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েলের সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ শুরু করে ইরানের উপর। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর থেকেই ইরানের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এমনকী মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্বয়ং বলে বসেন, নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে ইরানের ফুটবল দল তাঁর দেশে না এলেই ভালো করবে। শুধু তাই নয়, প্রশ্ন তোলা হয় ইরান ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহদি তাজকে নিয়েও। মেহেদি তাজ অতীতে ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি’র সদস্য ছিলেন। তাঁকে ঘুরিয়ে 'সন্ত্রাসবাদী' তকমাও দেওয়া হয়।
পালটা ইরান দাবি জানায়, আমেরিকার মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে চায় না তারা। নিজেদের সমস্ত ম্যাচ মেক্সিকোতে সরিয়ে দেওয়ার আর্জি জানায় তারা। তবে শুরু থেকেই ইরান সাফ জানিয়েছিল, বিশ্বকাপ বয়কটের কথা মোটেই ভাবা হচ্ছে না। তবে দীর্ঘ টালবাহানার পর জট কেটেছে। বৃহস্পতিবার ভ্যাঙ্কুভারে ফিফা কংগ্রেসে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, "পরিষ্কার করে জানিয়ে দিচ্ছি, অবশ্যই ইরান বিশ্বকাপে অংশ নেবে। তারা আমেরিকায় খেলবে।” তবে ইরানের ফুটবলার এবং দলের অন্যান্য সদস্যদের মার্কিন ভিসা পেতে সমস্যা হতে পারে বিশ্বকাপের সময়।
ফিফার বিশেষ শান্তি পুরস্কার ট্রাম্পের হাতে তুলে দিয়েছিলেন ইনফান্তিনো। ইরানের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও কি ট্রাম্পই নিলেন? ফিফা প্রেসিডেন্ট কি স্রেফ হাতের পুতুল?
যদিও ইরানের বিশ্বকাপ খেলার সিদ্ধান্তে ট্রাম্প বেশ খুশি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আমার কোনও আপত্তি নেই। জিয়ান্নি যদি বলে থাকে তাহলে একদম ঠিক আছে। আসলে জিয়ান্নি আমার খুব ভালো বন্ধু। এই নিয়ে আমার সঙ্গেও আলোচনা করেছিল।" উল্লেখ্য, ফিফার বিশেষ শান্তি পুরস্কার ট্রাম্পের হাতে তুলে দিয়েছিলেন ইনফান্তিনো। ইরানের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও কি ট্রাম্পই নিলেন? ফিফা প্রেসিডেন্ট কি স্রেফ হাতের পুতুল?
