আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির আবহে ইরানের ফুটবল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো আবারও জানিয়ে দিলেন, আমেরিকায় অনুষ্ঠিত আসন্ন বিশ্বকাপে ইরান অংশ নেবে এবং তাদের ম্যাচ হবে আমেরিকায়।
বৃহস্পতিবার ভ্যাঙ্কুভারে ফিফা কংগ্রেসে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি এই ঘোষণা করেন। ইনফান্তিনো বলেন, “শুরুতেই পরিষ্কার করে জানিয়ে দিচ্ছি, অবশ্যই ইরান বিশ্বকাপে অংশ নেবে। তারা আমেরিকায় খেলবে।” উল্লেখ্য, আগামী বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে কানাডা, আমেরিকা ও মেক্সিকো। ৪৮ দলের এই প্রতিযোগিতায় দল, কোচিং স্টাফ ও আধিকারিকদের একাধিক দেশে যাতায়াত করতে হবে। ফলে ভিসা জটিলতা বা কূটনৈতিক টানাপোড়েন কিছু দেশের ক্ষেত্রে সমস্যার কারণ হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ইরান ইতিমধ্যেই এশিয়ান বাছাইপর্বে গ্রুপ শীর্ষে থেকে টানা চতুর্থবার বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করেছে। তারা রয়েছে গ্রুপ ‘জি’-তে, যেখানে প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম, মিশ্র এবং নিউজিল্যান্ড। সূচি অনুযায়ী, ইরানের তিনটি গ্রুপ ম্যাচের মধ্যে দু'টি হবে লস অ্যাঞ্জেলেসে এবং একটি সিয়াটলে। তবে ইরানের অংশগ্রহণ ঘিরে বিতর্কও রয়েছে। তেহরান যুক্তরাষ্ট্রে নির্ধারিত ম্যাচ অন্যত্র সরানোর অনুরোধ জানালেও তা নাকচ করে দিয়েছে ফিফা। তারা জানিয়েছে, নির্ধারিত সূচিই বহাল থাকবে।
সূচি অনুযায়ী, ইরানের তিনটি গ্রুপ ম্যাচের মধ্যে দু'টি হবে লস অ্যাঞ্জেলেসে এবং একটি সিয়াটলে। তবে ইরানের অংশগ্রহণ ঘিরে বিতর্কও রয়েছে। তেহরান যুক্তরাষ্ট্রে নির্ধারিত ম্যাচ অন্যত্র সরানোর অনুরোধ জানালেও তা নাকচ করে দিয়েছে ফিফা। তারা জানিয়েছে, নির্ধারিত সূচিই বহাল থাকবে।
উল্লেখ্য, ইরান ফুটবল ফেডারেশনের প্রতিনিধিত্বকারী তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ফিফা কংগ্রেসে যোগ দিতে মঙ্গলবার টরন্টো পৌঁছালেও, শুরুতেই জটিলতার মুখে পড়ে তাঁরা। প্রতিনিধিদলের এক সদস্যকে কানাডায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এর প্রতিবাদে বাকি দুই সদস্যও ওই সম্মেলনে যোগ না দিয়ে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, মেহদি তাজ-সহ তিন কর্মকর্তা কানাডার অভিবাসন দপ্তরের ‘অপমানজনক আচরণ’-এর প্রতিবাদে দেশে ফিরে গিয়েছেন। তাজ ছাড়াও প্রতিনিধিদলে ছিলেন সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত মোমবেনি এবং তাঁর ডেপুটি হামেদ মোমেনি।
মেহেদি তাজ অতীতে ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি'র সদস্য ছিলেন। অন্যদিকে কানাডা সরকার জানায়, ২০২৪ সালে আইআরজিসি'কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার পর ওই বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয় না। এবার আমেরিকান রাজনীতিবিদ মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানের ফুটবলারদের অংশগ্রহণে ওয়াশিংটনের আপত্তি নেই। তবে তিনি বলেন, “আইআরজিসি'র সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে এমন কাউকে খেলোয়াড়দের সঙ্গে আসতে দেওয়া হবে না।” সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের দেশে বিশ্বকাপে ইরানের উপস্থিতি নিয়ে মাঠের বাইরের কূটনৈতিক টানাপোড়েন এখন থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
