কলকাতার ফুটবল ঐতিহ্যের অন্যতম ধারক-বাহক এই ক্লাব। ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানের সঙ্গে একাসনে উচ্চারিত হয় তাদের নামও। কিন্তু আর্থিক দুর্দশায় ডুবে রয়েছে মহামেডান। দলের হেড কোচ মেহরাজউদ্দিন ওয়াডু ভুলে গিয়েছেন, ঠিক কতটা বেতন বকেয়া রয়েছে তাঁর। বেতন বকেয়া থাকায় শুক্রবার অনুশীলন বয়কট করলেন মহামেডানের ফুটবলাররা। মাঠে এসে একা দাঁড়িয়ে রইলেন মেহরাজউদ্দিন।
অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে চলতি আইএসএলে খেলতে নেমেছে সাদা-কালো শিবির। কিন্তু আর্থিক সংকটের ছবিটা খুব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে মাঠে নেমে দলের পারফরম্যান্সে। টানা সাত ম্যাচ হারতে হয়েছে। ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে হজম করতে হয়েছে সাত গোল। পয়েন্ট টেবিলে সকলের নিচে পড়ে রয়েছে মহামেডান, মাথার উপর ঝুলছে অবনমনের খাঁড়া। দিনদশেক পরে পরবর্তী ম্যাচ খেলবেন আদিসনরা। কিন্তু শুক্রবার দেখা গেল, ফুটবলারদের কেউই অনুশীলনে আসেননি। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, বেতন না পেলে কেউ মাঠে নামবেন না। কোচিং স্টাফরা অবশ্য এসেছিলেন।
শুক্রবার মহামেডানের অনুশীলন মাঠে দাঁড়িয়ে মেহরাজউদ্দিনের আক্ষেপ, "সকলেরই বেতন বকেয়া আছে। কারও তিনমাস, কারও পাঁচমাস, কারও তার চেয়েও বেশি। একটা খবর ছড়িয়েছিল যে বকেয়া না পেলে ফুটবলাররা কেউ আসবেন না অনুশীলনে। আমারও বেতন বাকি রয়েছে, কত মাসের বেতন পাইনি আমার মনেও নেই।" কবে পুরো বেতন পাবেন মহামেডানের ফুটবলাররা, সেটা নিয়েও কিছু জানা নেই মেহরাজের। তাঁর আশা, আগামী ৪ তারিখের মধ্যে বকেয়া বেতনের কিছুটা অংশ হয়তো তুলে দেওয়া হবে সকলের হাতে। তারপর অনুশীলনে ফিরতে পারেন ফুটবলাররা।
মেহরাজউদ্দিনের আক্ষেপ, গত তিনটে ম্যাচে খানিকটা ছন্দে ফিরেছিল দল। এহেন পরিস্থিতিতে অনুশীলন না করলে সেই ছন্দ নষ্ট হয়ে যাবে। উল্লেখ্য, অতীতেও একাধিকবার অনুশীলন বয়কট করেছেন মহামেডান ফুটবলাররা। কিন্তু চলতি মরশুমে এই প্রথমবার এমন পদক্ষেপ করলেন তাঁরা। গোলকিপার কোচ শুভাশিস রায়চৌধুরী বলছেন, অফিশিয়ালরা কেউ মাঠে না আসায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হল। ক্লাব কর্তাদের উচিত ছিল মাঠে এসে কথা বলে সমস্যা সমাধান করা।
