ম্যাচ শেষ হয়ে গিয়েছে বেশ কিছুক্ষণ আগে। স্টেডিয়ামের বাইরের চত্বরে তখনও বিক্ষোভ চলছে ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) সমর্থকদের। বিক্ষোভ রেফারিকে ঘিরে। মিগুয়েলকে লাল-কার্ড দেখানোটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না লাল-হলুদ সমর্থকরা। পরিস্থিতি একটা সময় এতটাই জটিল হয়ে যায়, স্টেডিয়াম থেকে রেফারিদের বের করে নিয়ে যাওয়ার জন্য পুলিশি কর্ডন করতে হয়। শেষমেশ পুলিশি পাহারায় স্টেডিয়াম ছাড়েন রেফারি।সমর্থকদের মতো একইরকম ক্ষিপ্ত লাল-হলুদ কোচ অস্কার ব্রুজো। তিনি কোনওভাবেই রেফারির সিদ্ধান্ত মানতে পারছেন না।
ম্যাচের পর রীতিমতো তোপ দাগলেন তিনি। অস্কার বলছিলেন, " বেঞ্চের সামনে থেকে বেঙ্গালুরুর সহকারী কোচ অশ্লীল ভাষার প্রয়োগ করছিল মিগুয়েলের উদ্দেশ্যে। যদি লাল কার্ড দেখাতেই হত, তাহলে সেটা ওদের সহকারী কোচকে। রেফারি, সেটা না করে মিগুয়েলকে লাল-কার্ড দেখিয়ে দিল। এটা মেনে নেওয়া যায় না।" বেঙ্গালুরুর স্যাঞ্চেজ এর আগে লাল কার্ড দেখেছিলেন। কিন্তু বুধবার ফেডারেশনের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, স্যাঞ্চেজের লাল-কার্ড হয় না। যার ফলে এদিন ম্যাচ খেললেন তিনি।
অস্কারের কথায়, "আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাব। হঠাৎ করে ফেডারেশন জানিয়ে দিল, স্যাঞ্চেজের লাল কার্ডটা সঠিক নয়। দুম করে সিদ্ধান্ত বদল করে দিল। আমরাও মিগুয়েলের ব্যাপারটা নিয়ে ফেডারেশনে প্রতিবাদ জানাব।" লাল-হলুদ হেডস্যরের মতে, সাঞ্চেজের লাল কার্ড যদি বাতিল করা হয় তাহলে মিগুয়েলেরটাও বাতিল করা উচিত। উল্লেখ্য, ম্যাচ শেষের পর স্রেফ উচ্ছ্বাস দেখানোর কারণেও ইস্টবেঙ্গলের সহকারী কোচকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে।
সত্তরের মিনিটের বেশি সময় দশজনে খেলার পরও ড্র করেছে ইস্টবেঙ্গল। টিমের লড়াকু মানসিকতায় খুশি অস্কার। তবে ফলাফলে নয়। বলছিলেন, "দশ জন হয়ে যাওয়ার পরও ছেলেরা লড়াই করেছে, পিছিয়ে পড়ার পরও বারবার ফিরে এসেছে। সেটা নিয়ে আমি খুশি। কিন্তু এই ম্যাচের ফলাফলে খুশি হতে পারছি না। ম্যাচটা ভীষণভাবে জিততে চেয়েছিলাম। আমাদের আরও ভালো খেলতে হবে।"
