ফুটবল বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) শুরু হতে আর মাস খানেক বাকি। ইতিমধ্যে সূচি প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু খেলা দেখা যাবে কোন চ্যানেলে? তার এখনও কোনও নিশ্চয়তা নেই। এবার রিলায়েন্স-ডিজনির যৌথ প্রস্তাব ফিরিয়ে দিল ফিফা। কারণ, রিলায়েন্স-ডিজনি যে টাকার বদলে স্বত্ব কেনার প্রস্তাব দিয়েছে, তা ফিফার দাবির থেকে অনেকটাই কম। সোনির মতো সংস্থা আলোচনায় অংশ নিয়েও আর আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ফলে আদৌ বিশ্বকাপের ম্যাচ টিভিতে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় বাড়ছে।
ভারতবর্ষে ফুটবলপ্রেমীর অভাব নেই। দেশ র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকলেও ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স-স্পেনের ম্যাচ দেখার দর্শক প্রচুর পরিমাণে আছেন। ২০২৬ ও ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল দেখানোর জন্য ভারতে সম্প্রচারের স্বত্ব বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করেছিল ফিফা। প্রথমে এই স্বত্বের দাম রাখা হয় প্রায় ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯৩০ কোটি টাকা। কিন্তু কোনও সংস্থা ম্যাচ দেখানোর আগ্রহ দেখায়নি। বাধ্য হয়ে ফিফা সম্প্রচার স্বত্ব নামিয়ে আনে ৩৫ মিলিয়ন ডলারে। কিন্তু অবস্থা বদলায়নি।
এবার রিলায়েন্স-ডিজনির তরফ থেকে ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ভারতীয়ও মুদ্রায় যার পরিমাণ ১৯০ কোটি টাকা। তবে ফিফা এতেও রাজি নয়। শুধু ভারত নয়, চিনেও এক অবস্থা। ফিফার হিসেবে, ২০২২-র বিশ্বকাপে ডিজিটাল ও সোশাল মাধ্যমগুলো মিলিয়ে মোট ঘণ্টার ৪৯.৮ শতাংশ দেখেছেন শুধু চিনেই দেখেছে। আর ২০২২ সালের বিশ্বকাপে ভারত ও চিন মিলিয়ে ডিজিটাল সম্প্রচারের মোট ২২.৬ শতাংশ ছিল। কিন্তু এবার সেখানে বিশ্বকাপ দেখাতে কোনও সংস্থা এগিয়ে আসছে না।
ফিফা জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ১৭৫টি দেশের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন। কিন্তু 'ভারত ও চিনে সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রি নিয়ে আলোচনা চলছে। এই পর্যায়ে তা গোপন রাখা হচ্ছে।' ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব ভারতে বিক্রি হয়েছিল ৬২ মিলিয়ন ডলারে। ১১ জুন থেকে শুরু বিশ্বকাপ। কিন্তু কেন এই দুরবস্থা? আসলে আমেরিকা-কানাডা-মেক্সিকোয় আয়োজিত বিশ্বকাপের অধিকাংশ ম্যাচ ভারতীয় সময় গভীর রাতে। মূলত রাত সাড়ে বারোটা, দেড়টা, সাড়ে তিনটে, ভোর সাড়ে চারটে কিংবা সকাল সাড়ে ছটায়। সেই সময় কি বিপুল পরিমাণ দর্শক খেলা দেখবেন? সংশয়ে চ্যানেল সংস্থাগুলো। সম্ভবত সে কারণেই উৎসাহ হারাচ্ছে টেলিভিশন সংস্থা বা ওটিটি প্লাটফর্মগুলো।
