shono
Advertisement
FIFA

ট্রাম্পের 'দাদাগিরি' রুখতে আলোচনায় ডালমিয়ার পদক্ষেপ, আইসিসি'র থেকে শেখা উচিত ফিফার!

মার্কিন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ফিফা সভাপতির ‘মাখামাখি’ নিয়ে সমালোচনা চলছে গত কয়েক বছর ধরে।
Published By: Arpan DasPosted: 02:08 PM Jul 21, 2026Updated: 05:37 PM Jul 21, 2026

প্রথা অনুযায়ী ফিফার (FIFA) প্রতিযোগিতায় বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার দায়িত্ব থাকে সংস্থার সভাপতির উপর। অর্থাৎ গতবছর ক্লাব বিশ্বকাপ কিংবা এবারে বিশ্বকাপে ট্রফি দিতেই পারতেন ইনফান্তিনো। কিন্তু তিনি নিজেই সেই অধিকার হস্তান্তর করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে। এবার বিশ্বকাপ ফাইনালেও একই ঘটনা। এমনিতেই মার্কিন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ফিফা সভাপতির ‘মাখামাখি’ নিয়ে সমালোচনা চলছে গত কয়েক বছর ধরে।

Advertisement

এবার বিশ্বকাপে ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের শাস্তি স্থগিত করার ক্ষেত্রে দু’জনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠছে, যে ফিফা যে কোনও রাজনৈতিক চাপের উর্ধ্বে থাকে সবসময়, তাকে মার্কিন রাষ্ট্রপতির দাসে পরিণত করেছেন বর্তমান ফিফা সভাপতি। সেই ‘দাসত্বের’ পুনরাবৃত্তিই রবিবাসরীয় মেটলাইফ স্টেডিয়ামে দেখা গিয়েছে যেন। যে পরিস্থিতিতে ফিফা মেনে নিলেও, মানতে নারাজ ফুটবল অনুরাগীরা। তাই নিজের দেশই দর্শকদের বিদ্রুপের শিকার হতে হয়েছে মার্কিন রাষ্ট্রপতিকে।

এহেন পরিস্থিতিতেই আলোচনায় উঠে এসেছে আর এক ক্রীড়া প্রশাসকের অনমনীয়তার কথা। তিনি, জগমোহন ডালমিয়া। ক্রিকেট মাঠে রাজনৈতিক প্রভাব এড়াতে যিনি স্থগিত করে দিয়েছিলেন ফাইনালের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানই। ঘটনা ১৯৯৯ ওডিআই বিশ্বকাপের। সেদিন লর্ডসে ফাইনাল দেখতে উপস্থিত হয়েছিলেন ব্রিটেনের মহারানি এলিজাবেথ। আর প্রথা অনুযায়ী, উপস্থিত থাকলে মহারানির হাত দিয়েই ট্রফি নিতে হত সেবারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক স্টিভ ওয়াকে। কারণ অতীতে ইংল্যান্ডে হওয়া প্রথম দুই বিশ্বকাপে ট্রফি দিয়েছিলেন মাঠে উপস্থিত থাকা কিং ফিলিপ। এমনকী, ১৯৯৬ সালে শ্রীলঙ্কার অর্জুন রণতুঙ্গা লাহোরে ট্রফি নিয়েছিলেন তৎকালীন পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর হাত থেকে। আর চলে আসা এই প্রথাই বন্ধ করতে চেয়েছিলেন ডালমিয়া। সেই মতো ১৯৯৯ ফাইনালের পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান স্থগিত করে দিয়েছিলেন তিনি। মিনিট দশেক অপেক্ষার পর মাঠ ছেড়ে চলে যান এলিজাবেথ। তারপর তৎকালীন আইসিসি সভাপতি হিসেবে বিজয়ী অধিনায়ককে ট্রফি দেন ডালমিয়া। যিনি পরবর্তীতে জানিয়েছিলেন, নিজে ট্রফি দেওয়ার জন্য এমন পদক্ষেপ করেননি। বরং আইসিসি-কে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার লক্ষ্যে ট্রফি দেওয়ার অধিকার সংস্থার কর্তাদের দায়িত্ব পরিণত করাই ছিল তঁার লক্ষ্য। তারপর থেকে আইসিসি-তে সেটাই রেওয়াজ হয়ে উঠেছে।

সত্যিই, দুই প্রশাসকের আকাশ-পাতাল তফাত। ডালমিয়ার জমানায় ধরা পড়ে ক্রিকেটের বিভিন্ন অনিয়ম। যা একটু একটু করে শুধরে নেয় আইসিসি। ইনফান্তিনোর আমলে নতুন করে দুর্নীতি-অব্যবস্থার পাঁকে জড়িয়ে পড়ছে ফিফা। তাতে নবতম সংযোজন ’২৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement