আমেরিকা বিশ্বকাপেও (FIFA World Cup 2026) নিজের কাজ শুরু করে দিলেন এমবাপে। যেন কাতার বিশ্বকাপের কার্বন কপি। সেই অ্যাটিটিউড। সেই গতি। সেই বক্সের সামনে বল পেলে চিতার ক্ষিপ্রতায় প্রতিপক্ষর জালে বল পাঠিয়ে দেওয়া। এরপর এমবাপের (Kylian Mbappe) মর্জিতে ফরাসি কোচ দেশঁ-সহ ড্রেসিংরুম নিয়ন্ত্রিত হবে না কি, অন্য কারও কথায় নিয়ন্ত্রিত হবে? তারকাদের এই ‘ইগো তো মানতা হ্যায়’। গোল করে 'বংশীবাদক কৃষ্ণ' সাজলেন এমবাপে! কেন এমন বিশেষ সেলিব্রেশন করলেন?
সেনেগাল এমনভাবে শুরু করে যে, গ্যালারিতে ফরাসি সমর্থকরা তখন আতঙ্কে ভুগতে শুরু করেছেন। শেষে কোনও অঘটন ঘটবে না তো? কিন্তু এই ফ্রান্সের দলে তো এমবাপে আছেন। ফলে এমবাপে হ্যায় তো সব মুমকিন হ্যায়। চব্বিশ বছর আগে সিউলের সেই অভিশপ্ত বিকেলটার কথাই ম্যাচের শুরুতে বারবার মনে পড়ছিল। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল এক পুঁচকে সেনেগাল। আজ নিউ জার্সির এই আধুনিক কলোসিয়ামে যখন দুই দল নামল, তখন অবধারিতভাবেই বাতাসে ভাসছিল সেই প্রতিশোধের বারুদ। কিন্তু এই ম্যাচের আসল উপাখ্যান তো এক রাজপুত্রের রাজ্যাভিষেককে ঘিরে। কিলিয়ান এমবাপে।
ম্যাচের ৬৬ মিনিট। অলিসের পা থেকে বাড়ানো বলটা যখন এমবাপের পায়ে পৌঁছাল, মেটলাইফ স্টেডিয়ামের হাজার হাজার ফ্লাডলাইট যেন এক নিমেষে সেই জাদুকরের ওপর এসে থমকে গেল। ডিফেন্ডারকে ছিটকে ফেলে বক্সের কোণ থেকে চলতি বলে নেওয়া গোলার মতো শটটা সেনেগালের দ্বিতীয় পোস্ট থেকে জালে জড়িয়ে গেল। কান ফাটানো চিৎকারে ফেটে পড়ল স্টেডিয়াম। এমবাপের মুখে ফুটে উঠল সেই চেনা অহংকারী, অথচ নিষ্পাপ হাসি। বুক থেকে যেন এক বিশাল পাথরের ভার নেমে গেল তার। পরে সেনেগাল ব্যবধান কমালেও জয়ের মুখ দেখেনি।
কারণ? ওই যে বললাম না, এমবাপে হ্যায় তো সব মুমকিন হ্যায়। থিয়েটারের শেষ দৃশ্যটা নিজের নামেই লিখে রেখেছিলেন ফরাসি অধিনায়ক। সেনেগাল যখন অল-আউট আক্রমণে গিয়ে ফ্রান্সের ওপর চেপে বসেছে, ঠিক তখনই কাউন্টার অ্যাটাকে বল পেয়ে গেলেন এমবাপে। গতি, নিখুঁত ড্রিবলিং আর শটে সেনেগালের কফিনে শেষ পেরেকটাও পুঁতে দিলেন। ওই গোলের পর এমবাপে যখন কর্নার ফ্ল্যাগের দিকে দৌড়ে গিয়ে দু’হাত বুকে ক্রস করে দাঁড়ালেন, তখন মনে হচ্ছিল নিউ জার্সির এই মাঠটা আসলে কোনো ফুটবল স্টেডিয়াম নয়, ওটা আসলে এমবাপের নতুন সাম্রাজ্য। কিন্তু ফ্লুট সেলিব্রেশনের নেপথ্য কারণ কী? সম্প্রতি ব্রিটিশ অভিনেতা জেমস কর্ডেনের 'আফটার আওয়ার শো'-তে এসেছিলেন কিলিয়ান এমবাপে। সেখানে উঠে আসে তাঁর সঙ্গীত প্রেমের প্রসঙ্গ। যা নিয়ে ফরাসি তারকা বলেন, "বাবা-মা চেয়েছিল যেন আমি বিভিন্ন বিষয়ে অংশগ্রহণ করি। সেই মতো ছোটবেলায় বাঁশি বাজাতাম। তবে সেটা খুব অল্প সময়, এক-দু'বছরের জন্য।” শুনে কর্ডেন বলেন, গোল উদযাপনের ক্ষেত্রে বাঁশি বাজানোর ভঙ্গি করতে পারেন তিনি। যা শুনে এমবাপে জানান, সেনেগালের বিরুদ্ধে গোল করলে এভাবেই উদযাপন করলেন তিনি। মঙ্গলবার গোল করে কর্ডেনকে দেওয়া কথা রাখলেন ফ্রান্স অধিনায়ক।
