ভারতীয় ফুটবল প্রশাসনে শোকের ছায়া। প্রয়াত হলেন এআইএফএফ-এর প্রাক্তন সচিব কুশল দাস। দিল্লির এক বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের অন্দরমহলে নাটকীয় পরিবর্তন আনার নেপথ্যে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। কুশল দাসের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন মোহনবাগান সচিব সৃঞ্জয় বোস।
২০১০ সালের নভেম্বর থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত এআইএফএফ-এর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন কুশল দাস। ভারতীয় ফুটবলের সাংগঠনিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর আমলেই দেশীয় ফুটবল পরিকাঠামোকে আরও পেশাদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি। কেবল ফিফা নয়, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ভারতীয় ফুটবলের উন্নয়নে নানা প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। প্রশাসনিক দক্ষতা এবং দূরদর্শিতার জন্য ফুটবল মহলে তাঁর বিশেষ সুনাম ছিল।
তিনি এমন একটা সময় সচিব হয়েছিলেন, যখন পেশাদারিত্ব এবং অপেশাদারিত্বের মাঝে দাঁড়িয়েছিল ভারতীয় ফুটবল। ২০১০ সালের নভেম্বরে তিনি যখন ফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত হলেন, তখন ভারতীয় ফুটবলে রয়েছে সম্প্রচারকারী সংস্থা জি স্পোর্টস। তবে সেই সময় আই লিগের ম্যাচগুলি ঠিকমতো দেখাত না তারা। সমস্যা কাটাতে মাঠে নামেন তিনি। আই লিগের সম্প্রসারণ এবং সম্প্রচারের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নেন কুশল দাস।
তাঁর সময়কালেই ২৬ বছর পর, ২০১১ সালে এশিয়ান কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ভারত। তখন ব্লু টাইগার্সদের অধিনায়ক বাইচুং ভুটিয়া। কোচ বব হাউটন। এর পরেও অবশ্য এশিয়ান কাপে যোগ্যতা অর্জন করেছিল ভারত। সেই সময় কোচ স্টিফেন কনস্ট্যানটাইন। তাঁর সময় ভারত নেহরু কাপ এবং এএফসি চ্যালেঞ্জার্স কাপ জিতেছিল। প্রফুল প্যাটেলের সঙ্গে জুটি বেঁধে ভারতীয় ফুটবলের পরিকাঠামো উন্নয়নে নজিরবিহীন অবদান রেখেছেন কুশল দাস (Kushal Das)।
তাঁর সময়কালেই ২৬ বছর পর, ২০১১ সালে এশিয়ান কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ভারত। তখন ব্লু টাইগার্সদের অধিনায়ক বাইচুং ভুটিয়া। কোচ বব হাউটন। এর পরেও অবশ্য এশিয়ান কাপে যোগ্যতা অর্জন করেছিল ভারত। সেই সময় কোচ স্টিফেন কনস্ট্যানটাইন।
এর আগে ফেডারেশনের আর্থিক পরিকাঠামো ভঙ্গুর ছিল। কুশল দাস যুক্ত হওয়ার পর ফেডারেশনে আর্থিক নিরাপত্তা আসে। কুশল-প্রফুল জুটিতে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের বাণিজ্যিক অংশীদার হিসাবে যুক্ত হয় রিলায়েন্স-এর সহযোগী প্রাইভেট সংস্থা এফএসডিএল। তারা এআইএফএফ-এর দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক ও বিপণন অংশীদার হিসাবে কাজ করেছে। তাঁর সময়েই অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ এদেশে হয়েছিল। কোভিড পরিস্থিতিতে লিগ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
দুর্ভাগ্যের বিষয়, কল্যাণ চৌবেরা ক্ষমতায় আসার পর কুশল দাসের বিরুদ্ধে আর্থিক অভিযোগের তদন্ত চালায়। তাঁর বিরুদ্ধে ফরেন্সিক অডিটও চলে। যদিও এই অভিযোগ মিথ্যা পরিণত হয়। তিনি পেশাগতভাবে একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। এআইএফএফ-এর আগে তিনি আইএমজি ও আইসিসি'র মতো সংস্থায় সিএফও হিসেবে কাজ করেছেন। কুশল দাসের মৃত্যুসংবাদ প্রকাশ্যে আসতেই ভারতীয় ফুটবল মহলের বিভিন্ন মহল থেকে শোকবার্তা জানানো হয়েছে। ভারতীয় ফুটবলের প্রশাসনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে কুশল দাসের ভূমিকা দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকেরা। তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় ফুটবল প্রশাসনে এক শূন্যতা তৈরি হল।
