কথা দিয়েছিলেন ভিনি হবেন। সেই কথাই রাখলেন নেইমার জুনিয়র। নিজে জোড়া গোল করে সমালোচনার জবাব দিলেনই। একই সঙ্গে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের নাচের ভঙ্গিতে গোলের পর সেলিব্রেশন করে বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালেন নেইমার।
চলতি বছর প্রথমবার গোলের মুখ দেখলেন ব্রাজিলীয় তারকা। তাঁর জোড়া গোলে ব্রাজিলিয়ান সিরি 'আ'-তে চতুর্থ রাউন্ডে এসে ভাস্কো দা গামার বিপক্ষে জয় পেল স্যান্টোস। ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলের ভাবনায় নেইমারকে রাখেননি সেলেসাওদের কোচ কার্লো আনসেলত্তি। এমন খবরে হয়তো তেতে উঠেছেন তিনি। অনবদ্য পারফরম্যান্সে বুঝিয়ে দিয়েছেন, ফুরিয়ে যাননি। তবে গোলে ফেরার দিনে আলোচনায় তাঁর সেলিব্রেশন। কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে ভিনির মতো নেচে উদযাপন করেন তিনি।
কিন্তু কেন এমন সেলিব্রেশন করলেন? উত্তরটা অনেকেই জানেন। বেশ কিছু দিন আগে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বেনফিকাকে হারিয়ে বর্ণবিদ্বেষের শিকার হয়েছিলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। ৫০ মিনিটে বক্সের মাথা থেকে ডান পায়ের অবিশ্বাস্য কার্লারে জালে বল জড়িয়ে দেন তিনি। তারপরই কর্নার ফ্ল্যাগের সামনে গিয়ে নেচে সেলিব্রেট করেন। সেখান থেকেই বিতর্কের শুরু। বেনফিকা সমর্থকদের মনে হয়, কর্নার ফ্ল্যাগে থাকা তাদের পতাকাকে অপমান করেছেন ব্রাজিলীয় উইঙ্গার।
এরপর গ্যালারি থেকে ভেসে আসতে থাকে আপত্তিকর বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য। মাঠে জলের বোতল ছোড়া হয়। সেই আগুনে ঘি ঢালেন বেনফিকার ২০ বছর বয়সি মিডফিল্ডার জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানি। তিনি জার্সিতে মুখ ঢেকে ভিনিসিয়াসকে কিছু একটা বলেন। যা শুনে আরও ক্ষুব্ধ হন ভিনি। ছুটে রেফারিকে জানান। পরে মাদ্রিদের ডাগআউটে চলে যান। এদিকে ভিনিকেও হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। এর প্রতিবাদে দলও তুলে নিতে চেয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। যে কারণে ম্যাচ ১০ মিনিট বন্ধও ছিল। এই ঘটনার পর ভিনির পাশে দাঁড়ান নেইমার। তিনি বলেন, "তুমি আবার গোল করলে একইভাবে সেলিব্রেট করবে। আমিও ঠিক একই কাজ করব।" স্যান্টোসের হয়ে গোল করে সেই কথাই রাখলেন নেইমার। উল্লেখ্য, ২-১ গোলে সিআর ভাস্কো দা গামাকে হারিয়েছে স্যান্টোস। ২৫ এবং ৬১ মিনিটে গোল করেন ৩৪ বছরের তারকা ফুটবলার। এরপর কি ব্রাজিলের জাতীয় দলে জায়গা পাবেন নেইমার? সময়ই এর উত্তর দেবে।
