ইস্টবেঙ্গল: ১ (এডমুন্ড)
জামশেদপুর: ২ (এজে, রেই)
হল না জয়ের হ্যাটট্রিক। জামশেদপুরের বিরুদ্ধে এগিয়ে গিয়েও ২-১ গোলের ব্যবধানে হারল ইস্টবেঙ্গল। প্রাক্তনী মাদিহ তালাল-মেসি বাউলিদের দাপটে ঘরের মাঠে পরাস্ত হল অস্কার ব্রুজোর দল। জামশেদপুরের হয়ে গোল করেন স্টিফেন এজে ও রেই তেচিকাওয়া। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে একমাত্র গোল এডমুন্ড লালরিন্ডিকা। এগিয়ে গিয়েও ম্যাচের রাশ হাতছাড়া করার রোগ বদলাল না আনোয়ারদের। ডিফেন্সে ফাঁকফোকর ও গা-ছাড়া মানসিকতায় ফের ভুগল ইস্টবেঙ্গল।
টানা দুই ম্যাচে জিতে আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে ছিল। কিন্তু জামশেদপুরের প্রেসিং ফুটবলের সামনে শুরুতেই চাপে পড়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। মাঝমাঠ নিয়ে একটু পরীক্ষানিরীক্ষার পথে হেঁটেছিলেন লাল-হলুদ কোচ অস্কার ব্রুজো। কিন্তু জামশেদপুরের মাদিহ তালাল ও নিকোলা স্টোজানোভিচের ছন্দবদ্ধ ও সংঘবদ্ধ ফুটবলে মাঝমাঠের দখল নিয়ে নেয় আওয়েন কয়েলের ছেলেরা। সামনে লাল-হলুদেরই প্রাক্তনী মেসি বাউলি। তাঁর একটি গোল অফসাইডের জন্য বাতিল হয়। সেটা ছিল অশনিসংকেত। আগের দু'টি ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল জিতেছে ঠিকই। কিন্তু হঠাৎ করে 'স্যুইচড অফ' হয়ে গিয়েছে রক্ষণভাগ। এদিনও প্রয়োজনের সময় ঠিক সেটাই হল।
হাফটাইমের আগে অবশ্য ইস্টবেঙ্গলই এগিয়ে গিয়েছিল। ৪০ মিনিটে জামশেদপুরের জালে বল জড়িয়ে দেন এডমুন্ড লালরিন্ডিকা। গ্যালারিতে লাল-হলুদ গর্জন, মাঠেও দুই উইং দিয়ে উঠে বিপক্ষকে ব্যতিব্যস্ত রাখছিলেন বিপিন সিং, এডমুন্ডরা। দ্বিতীয় গোল যেন সময়ের অপেক্ষা। এর মধ্যে ইউসেফ এজ্জেজারি সহজ হেড মিস করেন। কিন্তু লিড পাওয়ার পর সেটা ধরে রাখাও তো 'আর্ট'। দ্বিতীয়ার্ধে আচমকাই থমকে গেল ইস্টবেঙ্গল। মাদিহ তালাল হয়ে উঠল আতঙ্কের নাম! স্টিজেন এজে শুধু রক্ষণ সামলালেন না, কর্নার পেলেই তাঁর বিরাট চেহারা আনোয়ারদের জন্য বিপদ হয়ে দেখা দিচ্ছিলেন। সেটাই হল ৬০ মিনিটে। নিকোলার কর্নার থেকে কার্যত ফাঁকা গোলে হেড করে চলে যান এজে।
লিড পাওয়ার পর সেটা ধরে রাখাও তো 'আর্ট'। দ্বিতীয়ার্ধে আচমকাই থমকে গেল ইস্টবেঙ্গল। মাদিহ তালাল হয়ে উঠল আতঙ্কের নাম! স্টিজেন এজে শুধু রক্ষণ সামলালেন না, কর্নার পেলেই তাঁর বিরাট চেহারা আনোয়ারদের জন্য বিপদ হয়ে দেখা দিচ্ছিল।
আচমকা স্কোরলাইন সমান হয়ে যাওয়ায় অনর্থক চাপ নিলেন অস্কার। আর এমন কিছু পরিবর্তন করলেন যা দুর্বোধ্য। এদিনই অভিষেক হওয়া অ্যান্টনকে সেভাবে খুঁজেই পাওয়া গেল না। জায়গা পরিবর্তন করিয়েও লাভ হয়নি। তিনি মাঠে রইলেন ৭০ মিনিট পর্যন্ত। সৌভিক চক্রবর্তীর সঙ্গে বদলি হিসেবে নামলেন নন্দকুমার। তাঁর যে কী ভূমিকা তা হয়তো নিজেও জানেন না। পিভি বিষ্ণু বা ডেভিডরা নামলেন বহু দেরিতে। উইং তো বটেই, মাঝমাঠেও রাজত্ব চালাল জামশেদপুর। যার সুফল পেল ৮৭ মিনিটে। মাদিহ তালালের একটা অসাধারণ ব্যাক হিল আর সেখান থেকে দুরন্ত শটে রেই তাচিকাওয়ার গোলে পিছিয়ে পড়ল ইস্টবেঙ্গল। তারপর মিগুয়েলরা বহু চেষ্টা করেও গোলের দেখা পাননি। ১-২ গোলে হেরে লিগ শীর্ষে ওঠে হল না ইস্টবেঙ্গলের।
লিগ এখনও অনেকটা বাকি। ২ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে রয়েছেন সৌভিকরা। কিন্তু এই আচমকা থমকে যাওয়ার রোগ না সারালে সমস্যায় পড়বে ইস্টবেঙ্গল। অ্যান্টন কতদিনে দলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন, সেটাও দেখার। আরেকটা রোগ অবশ্য সারবে না বলেই মনে হচ্ছে। তা হল রেফারিং। ইস্টবেঙ্গলের একটি ন্যায্য হ্যান্ডবলের দাবি বাতিল হয়। ক্রমাগত ফাউল সহ্য করে তিতিবিরক্ত মিগুয়েল হলুদ কার্ড দেখলেন। এই সমস্যা নিয়েই ভারতীয় ফুটবল চলছে।
