সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আইএসএল-এর প্রথম সংস্করণ থেকেই চোট আর এটিকে প্রায় সমার্থক শব্দ। বিশেষত মার্কি ফুটবলারের ক্ষেত্রে বরাবর ভুগতে হয়েছে তাঁদের। কখনও লুইস গার্সিয়া, তো কখনও হেল্ডার পোস্তিগা। এবারেও সেই ভূত তাড়া করে বেড়াচ্ছে। চোটগ্রস্ত তারকা ফুটবলার রবি কিন। আর এই অবস্থাতেই রবিবার প্রথম হোম ম্যাচ খেলতে নামছে এটিকে। শুধু মার্কি ফুটবলার রবি কিন নয়, চোটের তালিকায় নাম রয়েছে আরও তিন ফুটবলারের। তালিকায় নতুন করে নাম লিখিয়েছেন আরও দু’জন। চোট সমস্যা রয়েছে এফসি পুণে সিটিতেও। তবে তাদের তালিকা এত লম্বা নয়। অর্জুন কাপুরের দলে চোট সমস্যা জুয়েল রাজার। মরশুমের প্রথম মিনিটেই যাঁকে ছাড়তে হয়েছিল মাঠ। ইউটিলিটি ফুটবলার না থাকায় পরিকল্পনা যে ধাক্কা খেয়েছে তা মেনে নিচ্ছেন পুণে কোচ। তবু সব ভুলে রবিবারের যুবভারতীতে দুই দলের লক্ষ্য এক, তিন পয়েন্ট।
[যে পথে রয়েছে আকাশের ঠিকানা, বরফের হাতছানি…]
ন’দিন আগে প্রথম ম্যাচে কেরলে গোলশূন্য ড্র করে মাঠ ছেড়েছিল এটিকে। অন্যদিকে, গত বুধবার পুণে ২-৩ গোলে হারে দিল্লি ডায়নামোসের কাছে। ফলে মরশুমের শুরুতে লিগ তালিকার নিচের দিকে রয়েছে দুই ফ্র্যাঞ্চাইজি। পুণে রয়েছে ন’নম্বরে। এক পয়েন্ট পেয়ে এটিকে সাতে। রবিবার জিততে পারলে এক লাফে অনেকটা এগিয়ে আসা যাবে। এই সহজ অঙ্ক জানেন দুই দলের সবাই। জয় ছাড়া অন্য কিছু দেখার উপায় নেই। কিন্তু এই পথে সবথেকে বড় বাধার নাম চোট। পুণের যেখানে কেবল রয়েছে জুয়েল রাজার চোট, সেখানে অনেক বেশি জর্জরিত এটিকে। প্রথম ম্যাচের আগেই চোটের তালিকায় রবি কিন ছাড়া ছিলেন আশুতোষ মেহতা, জয়েশ রাণে ও কার্ল বাকের। পুণে ম্যাচের আগে তাঁদের সঙ্গে জুড়েছে আনোয়ার আলি ও শঙ্কর সামপিঙ্গিরাজের নাম। কিনের দিন দশেকের মধ্যে দেশ থেকে ফিরে দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আশাবাদী টেডি। এত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে অবশ্য অন্য কারণে কিছুটা চটে রয়েছেন এটিকে কোচ টেডি শেরিংহ্যাম। ম্যাচের আগেরদিন বলছিলেন, “হোম ম্যাচে সবাই ঘরের মাঠে খেলার সুবিধা পেয়ে থাকে। কিন্তু আমরা প্র্যাকটিসই করতে পারিনি। তাও মাঠের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের ধন্যবাদ দেব যে ওরা আমাদের একবার অন্তত হেঁটে দেখতে দিয়েছেন। কিন্তু তাতে তো মাঠকে চেনা যায় না।” তবে দলের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের এই বিষয়ে দিনকয়েক আগে চাঁচাছোলা ভাষাতেই আক্রমণ করেছেন বলে খবর। বলেছিলেন, “একটা মাঠের চরিত্র বুঝতে তিন-চারটে ম্যাচ লেগে যায়। সেখানে আপনারা বলছেন ম্যাচের দিন ওয়ার্ম আপের আগে ছেলেরা মাঠে পা দিতে পারবে না। কুড়ি মিনিটে একটা মাঠের চরিত্র বোঝা যায়?”
[কলকাতায় লুকিয়ে আরও তিন জঙ্গি, ধৃতদের জেরায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য]
তবে এটিকে-র কর্মকর্তারা মুখে যেটা বলছেন না, সেটা হল আদৌ যুবভারতী ভরবে তো? কারণ গত বছর পর্যন্ত আইএসএল চলাকালীন কলকাতার দুই প্রধান ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানের ম্যাচ থাকত না। ফলে অনেকেই আইএসএলে এটিকে-কে সমর্থন করে মাঠ ভরাতেন। সেখানে এবার একই সঙ্গে রয়েছে আই লিগের ম্যাচ। শনিবারই মাঠে নেমেছে মোহনবাগান। মঙ্গলবার প্রথম হোম ম্যাচে নামবে ইস্টবেঙ্গলও। এই পরিস্থিতিতে মাত্র তিন বছরের অ্যাটলেটিকো ডি কলকাতা কি পারবে ইস্ট-মোহনের সমর্থনের সঙ্গে পাল্লা দিতে? থাকছে সেই প্রশ্ন। তাও আবার যেখানে এটিকে কর্ণধার সঞ্জীব গোয়েঙ্কা এই দুই প্রধান সম্পর্কেই আলটপকা মন্তব্য করে ফেলেছিলেন। খারাপ পারফরম্যান্স করলে যে সমর্থকরা নিজেদের দলের ফুটবলারদেরই ছেড়ে কথা বলে না, তাঁরা কি এত সহজে সব ভুলে যাবে? থাকছে সেই প্রশ্নও। যার উত্তর দেবে রবিবাসরীয় যুবভারতী।
[জঙ্গি মেজর জিয়া ও মজিদকে গ্রেপ্তারে তল্লাশি চালাচ্ছেন গোয়েন্দারা]
The post ঘরের মাঠে আজ যেন ‘অ্যাওয়ে’ ম্যাচ এটিকে-র appeared first on Sangbad Pratidin.
