রবিবারই ফেডারেশনের কার্যকরী কমিটির বৈঠকে আগামী ১৫ বছরের জন্য ক্লাব ফুটবলের কমার্শিয়াল পার্টনার কারা হবে, তাদের নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাধ সাধল শনিবার রাতে ক্লাব জোটের তরফে আসা একটি চিঠি। সেখানে ক্লাব জোটের তরফে জানানো হয়েছিল, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করার আগে বিডারদের সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হোক। বিশেষ করে তাদের পরিকল্পনা, রাজস্ব আদায়ের মডেল, ব্যয়ের কাঠামো, পরিচালনগত সক্ষমতা সহ একাধিক বিষয়গুলি ভালোভাবে খতিয়ে দেখা উচিত ফেডারেশনের। আপাতত সেই চিঠির পাওয়ার পর কর্মসমিতির সদস্যরা এদিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ফেডারেশন নিযুক্ত গ্লোবাল সংস্থা কেপিএমজিকে দিয়ে বিডে অংশগ্রহণকারী তিন সংস্থা জিনিয়াস স্পোর্টস, ফ্যান কোড ও ক্যাপ্রি স্পোর্টসের বিভিন্ন দিক নিয়ে একটি রিপোর্ট তৈরি করার। একইসঙ্গে বিড করা সংস্থাগুলোর সঙ্গে ক্লাবদের একটি বৈঠকের আয়োজন করতে চলেছে ফেডারেশন।
ভারতীয় ক্লাব ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদী কমার্শিয়াল রাইট নিতে আগ্রহী জিনিয়াস স্পোর্টস প্রস্তাব দিয়েছে ২১২৯ কোটি টাকা (২০ বছরের জন্য), ফ্যান কোডের প্রস্তাব ১১৯০ কোটি টাকা (২০ বছরের জন্য)। বার্ষিক ৩৬ কোটি টাকা। আর আইডব্লুএল ও আইডব্লুএল টু-র জন্য ক্যাপ্রি স্পোর্টস প্রস্তাব দিয়েছে ১৫০ কোটি টাকা (২০ বছরের জন্য)। এদিন ফেডারেশনের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "বিডের সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করার পর কার্যকরী কমিটির সদস্যরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কেপিএমজিকে দরপত্রের আর্থিক কাঠামো এবং প্রধান কারিগরি দিকগুলো মূল্যায়ন করার জন্য বলা হবে।” পাশাপাশি ক্লাব জোটের দাবি অনুযায়ী বিডার বাছাই প্রক্রিয়াতে যাতে স্বচ্ছতা থাকে তার জন্য জিনিয়াস স্পোর্টস ও ফ্যান কোডের সঙ্গে ক্লাবগুলির একটি বৈঠকের আয়োজন করা হবে বলে জানা গিয়েছে। এই বৈঠকের মধ্যে দিয়ে সংস্থাগুলির টুর্নামেন্ট পরিচালনা ও পরিকল্পনা সম্পর্কে আরও কৌতূহল মেটাতে পারবেন ক্লাবগুলি। এই প্রক্রিয়ার পর সংস্থাগুলিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টার্মশিট দাখিল করার কথা বলা হবে ফেডারেশনের তরফে। তারপর পুরো বিষয়টিকে পাঠানো হবে জেনারেল বডিতে। সেখানে সামগ্রিক রিপোর্ট বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন সভ্যরা।
এদিন ফেডারেশনের কর্মসমিতির সভায় ন্যাশনাল স্পোর্টস গভর্নেন্স অ্যাক্টের বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। রাজ্য সংস্থাগুলিকে এই আইনের আওতায় নিজেদের সংস্থা পরিচালন পদ্ধতি তৈরি করতে হবে। জানা গিয়েছে, রাজ্য সংস্থাগুলিকে এই আইন নিজেদের সংস্থায় বাস্তবায়ন করতে ৯০ দিনের সময় দেওয়া হচ্ছে।
