মরক্কোর হুঁশিয়ারিকে পাত্তা না দিয়ে কেড়ে নেওয়া ট্রফি নিয়ে শোভাযাত্রা করল সেনেগাল। মাস দুই আগে আফ্রিকান কাপ অফ নেশনস চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সাদিও মানের দল। কিন্তু সেই খেতাব কেড়ে নিয়ে মরক্কোকে দেওয়া হয়েছিল। আফ্রিকা ফুটবলের নিয়ামক সংস্থার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে ট্রফি নিয়ে প্যারেড করেছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশটি।
মাস দুয়েক আগে আফ্রিকান কাপ অফ নেশনস জিতেছিল সেনেগাল। কিন্তু চ্যাম্পিয়নের শিরোপা সাদিও মানেদের থেকে কেড়ে নেয় আফ্রিকার ফুটবল সংস্থা। এবার তারা চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করেছে মরক্কোকে। যাদেরকে ফাইনালে ১-০ গোলে হারিয়েছিল সেনেগাল। ম্যাচে প্রচুর নাটক হয়। তার দু’মাস পরও নাটক অপেক্ষা করে ছিল, তা কে জানত! এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে ট্রফি ফিরে পাওয়ার জন্য সাদিও মানেররা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতের (ক্যাস) দ্বারস্থ হয়েছে। এখানেই থেমে থাকেননি তাঁরা।
ট্রফি নিয়ে রীতিমতো প্যারেড করেছে সেনেগাল। শনিবার ফ্রান্সের স্তাদে দে ফ্রান্স স্টেডিয়ামে পেরুর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ ছিল। তার আগে আফকন ট্রফি নিয়ে শোভাযাত্রা করেছে। গ্যালারিতে উপস্থিত সমর্থকরা নিজেদের উচ্ছ্বাস প্রকাশে পিছপা হননি। তাঁরা স্লোগান দেন, “কোনও বোর্ডরুমে বসে নয়, আমরা এই ট্রফি স্বচ্ছভাবে জিতেছি। এটা আমাদের প্রাপ্য। এর গায়ে হাত দিতে পারবে না কেউ।” ট্রফি নিয়ে শোভাযাত্রার পর সেনেগাল দুই তারকাখচিত জার্সি পরে ম্যাচ খেলতে নামে। দুই তারকা অর্থাৎ দু'টি আফকন ট্রফি। যার প্রথমটি তারা জেতে ২০২১ সালে।
ট্রফি নিয়ে রীতিমতো প্যারেড করেছে সেনেগাল। শনিবার ফ্রান্সের স্তাদে দে ফ্রান্স স্টেডিয়ামে পেরুর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ ছিল। তার আগে আফকন ট্রফি নিয়ে শোভাযাত্রা করেছে। গ্যালারিতে উপস্থিত সমর্থকরা নিজেদের উচ্ছ্বাস প্রকাশে পিছপা হননি।
প্রীতি ম্যাচের আগে একটি অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছিল। ওই অনুষ্ঠানে একটি ভিডিও দেখানো হয়। সেখানে 'লেস লায়ন্স ডি লা তেরাঙ্গা'দের বিশেষ সম্মান জানানো হয়। অনুষ্ঠান শেষে অধিনায়ক কালিদু কুলেবালির নেতৃত্বে সেনেগাল দল ট্রফি নিয়ে নিয়ে মাঠে নামে। গোলকিপার এদুয়ার্দো মেন্দি ট্রফি হাতে নিয়ে সতীর্থদের সঙ্গে মাঠ প্রদক্ষিণ করেন। এরপর প্রেসিডেন্ট বক্সে সেনেগাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল্লায়ে ফলের সামনে ট্রফি রাখেন। সাদিও মানেকে ছাড়াই ২-০ জয়ী হয় সেনেগাল। উল্লেখ্য, কিছু দিন আগে মরক্কোর ফুটবল সংস্থা একপ্রকার হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছিল, সেনেগাল প্রকাশ্যে আফকন ট্রফি প্রদর্শন করলে আইনি ব্যবস্থা নেবে তারা। সেই হুঁশিয়ারিকে পাত্তাই দিল না সেনেগাল।
চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারির ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টি পেয়েছিল মরক্কো। কিন্তু সেনেগালের দাবি, পেনাল্টি অন্যায্য। বরং তাদের প্লেয়ারকেই আগে ফাউল করা হয়েছে। প্রতিবাদ শুরু করে সেনেগাল। কোচ পাপে দিয়াউ দল তুলে নেন। সেনেগালের প্লেয়াররা ড্রেসিংরুমে ফিরেও যান। শুধু একজন বাদে। তিনি সাদিও মানে। অধিনায়কের নির্দেশে প্লেয়াররা মাঠে ফিরে আসেন। মরক্কোর ব্রাহমিন দিয়াজ পেনাল্টি মিস করেন এবং অতিরিক্ত সময়ের গোলে চ্যাম্পিয়ন হয় সেনেগাল। কিন্তু তারা যে দল তুলে নিতে চেয়েছিল, সেটাকে ভালোভাবে নেয়নি আফ্রিকার ফুটবল সংস্থা বা কাফ। মরক্কো ফুটবল সংস্থার পক্ষ থেকেও আপিল করা হয়েছিল। তার ভিত্তিতে কাফ সিদ্ধান্ত নেয়, রেফারির অনুমতি ছাড়া দল তুলে নেওয়া বা মাঠ ছাড়ার সিদ্ধান্ত হারের সমান। সেক্ষেত্রে ওই দলকে প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দেওয়া হয়। তাই সেনেগালকে প্রতিযোগিতা থেকে বহিষ্কৃত ধরা হয়েছে। এবং মরক্কোকে ৩-০ গোলে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়েছে। এরই প্রতিবাদ জানায় সেনেগাল।
