জামাইষষ্টি মানেই এলাহি খাওয়াদাওয়া। এই একদিন জামাই হোক বা বাড়ির অন্যান্যরা, না ভেবেই আয়েশ করে খেয়ে নেন খাসির মাংস, ইলিশের নানান পদ অথবা বিভিন্ন রকমের দই-মিষ্টি ইত্যাদি। কিন্তু একে বাইরে গরমের দাপট, তাই মশলাদার খাবার— দুইয়ে মিলে দেখা দিতেই পারে হজমের নানান সমস্যা (Digestive Issues)। বাড়িতে যে সবসময় ওষুধ থাকবেই তার কথা নেই। তাছাড়া ঘরোয়া টোটকা থাকতে, ওষুধের দিকে যাবেনই বা কেন?
মৌরি জল। আদা চা। অরিগ্যানো জল। পুদিনা জল।
মৌরির জল
ভারী খাবারের পর হজম করানোর জন্য মৌরি তো খাওয়াই যায়। জলে মৌরি ভিজিয়ে রেখে সেই জল পান করলেও উত্তম ফল মেলে। পেটের ফাঁপাভাব ও অ্যাসিডিটি কমে। মৌরি ভেজানো জলে সামান্য বিটনুন মিশিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা।
আদা চা
লিকার চা ফোটানোর সময় সরু ফালিতে কেটে দেওয়া যায় কয়েক টুকরো আদা। এই চা বমিভাব দমন করে। বদহজম কমাতে পারে। পেট ফোলাভাবও কমে অনেকখানি। চাইলে, এই চা ফোটানোর সময়েই কয়েকটা পুদিনা পাতা ফেলে দিতে পারেন তাতে। এতে দ্রুত সুরাহা হয় হজমজনিত সমস্যার।
পুদিনা জল
চায়ের ঝঞ্ঝাটে না গিয়ে স্রেফ পুদিনা জলও বানিয়ে নেওয়া যেতে পারে, যা সহমে সাহায্য করে। পুদিনা ভেজানো জল ছেঁকে নিয়ে পান করলে, ওষুধ ছাড়াই কমবে পেট আইঢাঁই ভাব।
হিং-জিরের হজমি
হামানদিস্তায় এক সঙ্গে পিষে নিন কয়েকদানা জিরে, গোটা ধনে, গোটা জোয়ান ও কিছুটা হিং। পেষাই হলে, তাতে ফালি করে কাটা আদা দিয়ে থেঁত করে নিন আবারও। এই হজমি দ্রুত কমায় গ্যাস-অ্যাসিডিটি। কেবল ওষুধ হিসেবে নয়, রোজই খাবারের শেষে মুখে ফেলে দেওয়া যায় এই ঘরোয়া হজমি। এতে সামগ্রিক হজমজনিত কাজ সহজে সম্পন্ন হয়।
অরিগ্যানো জল
ফুটন্ত জলে অরিগ্যানো ও রক সল্ট দিন। ফুটে উঠলে হালকা গরম থাকতেই পান করুন। গ্যাস থেকে মুক্তি পাওয়ার এর চাইতে ভালো উপায় হতেই পারে না, বলেন পুষ্টিবিদরা। তবে বাঙালি বাড়িতে যে অরিগ্যানো অথবা রক সল্ট থাকবেই, এমন নয়। এই পদ্ধতি কাজে দিলে, আনিয়ে রাখা যেতে পারে।
গ্যাস-বদহজম থেকে রেহাই মিলবে অল্প সময়েই।
গরম জল
তবে এই সব টোটকার আগে ফিরতে হয় জলের কাছে। যতক্ষণ আদা চা তৈরি করছেন, হজমি পেষাই করছেন কিংবা অরিগ্যানো জলে ফুটিয়ে প্রস্তুত করছেন, হজমজনিত কষ্ট শুরু হলে কি তা থেমে থাকবে? তাই সবার আগেই যা পাওয়া যাবে হাতের নাগালে, তা হল সাধারণ গরম জল। গ্লাসভর্তি ঈষদুষ্ণ জল ধীরে ধীরে পান করতে হবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রাথমিক স্তরের যে কোনও হজমজনিত সমস্যা, তা সে পেটের ফোলাভাব হোক কিংবা অ্যাসিডিটি— গরম জলের কাছে কাবু হতে বাধ্য!
