৩৫ হাজার ফুট উচ্চতায় জানলার বাইরে ভেসে বেড়াচ্ছে মেঘ, আর আপনি ভেতরে বসে নিজের শরীর ও মনকে নতুন করে সচল করে তুলছেন। ঠিক এমন ভাবনাকেই বাস্তবে রূপ দিল দেশের আয়ুষ মন্ত্রক। দীর্ঘ বিমানযাত্রার ক্লান্তি, শরীরের জড়তা আর মানসিক চাপ কাটাতে তারা আনল মাত্র ৫ মিনিটের এক সহজ, কার্যকর 'ইন-ফ্লাইট যোগ'।
এই বিশেষ উদ্যোগটিকে বাস্তবে রূপ দিতে সহায়তা করেছে মোরারজি দেশাই ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ যোগ। আর এই 'ইন-ফ্লাইট যোগ' প্রকাশ পেল যোগা মহোৎসব ২০২৬-এ। আয়ুষ প্রতিমন্ত্রী প্রতাপরাও যাদবের কথায়, যোগা এমন এক জীবনধারা, যা স্থান-কাল-পরিস্থিতির সীমা মানে না। তাই বিমানের সিটেও এটি হয়ে উঠতে পারে সুস্থ থাকার সহজ উপায়।
প্রকাশ পেল ইন-ফ্লাইট যোগার রূপরেখা। ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ ভ্রমণ, লুকিয়ে থাকা সমস্যা
বিমানযাত্রায় আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রায় একই ভঙ্গিতে বসে থাকি। এতে শরীরের পেশি স্টিফ বা শক্ত হয়ে যায়, কমে রক্ত সঞ্চালন, আর অজান্তেই শরীরে জমতে থাকে ক্লান্তি। অনেক সময় মাথা লাগে ভার, অস্বস্তি বা অস্থিরতাও দেখা দেয়। তাই শরীরকে একটু নড়াচড়া করা, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্য়ায়াম- এই ছোট ছোট জিনিসেই শরীর পায় স্বস্তি, আরাম।
৫ মিনিটে ফ্রেশ হবার সহজ উপায়
এই রুটিনের সবচেয়ে বড় দিক হল- এটি খুবই সহজ। যে কেউই করতে পারেন। কোনও বিশেষ জায়গা বা সরঞ্জামের প্রয়োজন পড়ে না, নিজের সিটে বসেই করা যায়।
শুরুটা নীরবতায় (১৫ সেকেন্ড)
চোখ বন্ধ করে নিজের শ্বাসে মন দিন। কয়েক মুহূর্তেই মন ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে আসবে।
হালকা নড়াচড়া (৪৫ সেকেন্ড)
কাঁধ ঘোরানো, পা একটু স্ট্রেচ করা- এই ছোট নড়াচড়াগুলোই শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, ভাঙে জড়তা।
সহজ আসন, আরাম অনেক
সিটেড স্ট্রেচ, মেরুদণ্ড ঘোরানো বা ক্যাট-কাউ ব্যায়াম, এগুলো শরীরের চাপ কমায়, ভঙ্গি ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
শ্বাসের ছন্দে স্বস্তি
গভীর শ্বাস, অনুলোম-বিলোম বা অল্টারনেট নস্ট্রিল ব্রিদিং, ভ্রমরী- এই প্রাণায়াম মস্তিষ্ককে শান্ত করে, শরীরকে অক্সিজেনে ভরিয়ে দেয়।
শেষে একটু থামা (৩০ সেকেন্ড)
মনকে রিসেট করার জন্য় কয়েক মুহূর্তের নীরবতা।
বিমানে বসে ৫ মিনিটে কাটবে ক্লান্তি। ছবি: সংগৃহীত
ছোট অভ্যেস, বড় উপকার
নিয়মিত এই অভ্যেস ক্লান্তি ও শরীরের জড়তা কমায়, রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে, কমে মানসিক চাপ।
ভ্রমণে সুস্থতার সংস্কৃতি
ভাবুন তো, বিমানে বসে থাকা অচেনা মানুষগুলো একসঙ্গে কয়েক মিনিটের জন্য যোগাভ্যাস করছেন, এ যেন ভ্রমণের মধ্যেই তৈরি হবে এক নতুন সুস্থতার সংস্কৃতি। ভবিষ্যতে হয়তো বিমানের ঘোষণার সঙ্গেই শোনা যাবে এই যোগার নির্দেশ।
শেষে একটাই কথা, ভ্রমণ মানেই ক্লান্তি নয়। সেই যাত্রা হয়ে উঠতে পারে অনেক বেশি আরামদায়ক, স্বস্তিদায়ক, আর শরীর-মন দু'দিক থেকেই অনেক বেশি ভালো লাগার অনুভূতি।
