শিশুর পরিচ্ছন্নতায় 'বেবি ওয়াইপস' এখন অপরিহার্য। ডায়াপার বদলানো থেকে শুরু করে হাত-মুখ মোছানো— সব কিছুতেই ওয়াইপস। কিন্তু এই অতি-নির্ভরতাই কি সন্তানের ত্বকের সর্বনাশ ডেকে আনছে? চিকিৎসকরা বলছেন, ওয়াইপসের অতিরিক্ত ব্যবহার আসলে শিশুর স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা 'স্কিন মাইক্রোবায়োম' নষ্ট করে দিচ্ছে।
ছবি: সংগৃহীত
কেন চিন্তায় চিকিৎসকরা?
শিশুর ত্বক প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় অন্তত পাঁচ গুণ বেশি পাতলা ও সংবেদনশীল। নবজাতকের ত্বকের ওপর একটি প্রাকৃতিক তৈলাক্ত স্তর থাকে, যাকে বলা হয় 'লিপিড লেয়ার'। বারবার ওয়াইপস দিয়ে ঘষলে এই স্তরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে ত্বক তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর ত্বকে এক ধরনের উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে যা বাইরের সংক্রমণ থেকে তাকে রক্ষা করে। অনেক নামী ব্র্যান্ডের ওয়াইপসে অ্যালকোহল, প্রিজারভেটিভ এবং উগ্র সুগন্ধি মেশানো থাকে। এই রাসায়নিকের সংস্পর্শে এলে ওই উপকারী ব্যাকটেরিয়াগুলো মারা যায়। এর ফলে শিশুর ত্বকে র্যাশ, একজিমা এবং 'ডায়পার ডার্মাটাইটিস'-এর মতো চর্মরোগের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
ছবি: সংগৃহীত
সমাধান কোন পথে?
বিজ্ঞাপনের চটকদারি দেখে নয়, বরং প্রাকৃতিক উপায়ে শিশুর ত্বকের যত্ন নেওয়া জরুরি।
১) সুতির কাপড়ের ব্যবহার: বাড়িতে থাকাকালীন ওয়াইপসের বদলে হালকা গরম জল এবং নরম সুতির কাপড় ব্যবহার করা সবথেকে নিরাপদ। এতে ত্বকে ঘর্ষণ কম হয়।
২) বাতাসে শুকোতে দিন: ডায়াপার বদলানোর পর সঙ্গে সঙ্গে নতুন ডায়াপার পরাবেন না। কিছুক্ষণ জায়গাটি খোলা রাখুন যাতে ত্বক স্বাভাবিক হাওয়ায় শুকোতে পারে।
৩) রাসায়নিক বর্জন: যদি ওয়াইপস ব্যবহার করতেই হয়, তবে সেটি যেন অবশ্যই সুগন্ধহীন এবং 'পিএইচ (pH) ব্যালেন্সড' হয়। কেনার আগে দেখে নিন তাতে জলের পরিমাণ বেশি আছে কি না।
৪) সুরক্ষা স্তর: ডায়াপার পরানোর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভালো কোনও ব্যারিয়ার ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। এটি ত্বকের ওপর একটি বাড়তি সুরক্ষা স্তর তৈরি করে।
মনে রাখবেন, শিশুর হাসিমুখ বজায় রাখতে কৃত্রিম উপকরণের চেয়ে প্রাকৃতিক যত্নই বেশি কার্যকর। সামান্য অসতর্কতা আপনার আদরের সন্তানের ত্বকের চিরস্থায়ী ক্ষতি করে দিতে পারে। তাই ওয়াইপস ব্যবহারে রাশ টানার সময় এবার এসেছে।
