সম্প্রতি একটি প্রশ্ন অনলাইনে ঘুরপাক খাচ্ছে। দীর্ঘদিন RO জল পানে কি স্বাস্থ্যের কোনও ক্ষতি হতে পারে? ভারতের বহু বাড়িতেই এখন রিভার্স অসমোসিস বা RO ফিল্টার ব্যবহার করা হয়। এই প্রযুক্তি জলের নানা ক্ষতিকর পদার্থ দূর করতে খুবই কার্যকর। তবে এর সঙ্গে জলের স্বাভাবিক খনিজ পদার্থ, যেমন ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের মাত্রাও অনেকটাই কমে যায়।
তাই প্রশ্ন উঠছে, দীর্ঘদিন এ ধরনের জল পান করলে কি শরীরে খনিজ ঘাটতি তৈরি হতে পারে? নেফ্রোলজিস্টদের ব্য়াখ্য়া, RO ফিল্টার জলের দূষিত পদার্থ দূর করার পাশাপাশি কিছু খনিজকেও অপসারণ করে দেয়। তাঁদের কথায়, শরীরের প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম বা ম্যাগনেশিয়ামের প্রধান উৎস পানীয় জল নয়। অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে এই খনিজের বড় অংশ আসে খাবার থেকে। দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, ডাল, বাদাম, দানাশস্য়, শাকসবজি—এসব নিয়মিত খেলে কেবল RO জল পানের কারণে খনিজ ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে যদি কারও সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসে শাকসবজি না থাকে এবং পুষ্টির ঘাটতি থাকে, তখন বিষয়টি কিছুটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ছবি: সংগৃহীত
শরীরে প্রভাব পড়েছে কি না বোঝার উপায়
কয়েকটি সাধারণ রক্তপরীক্ষা এ ক্ষেত্রে প্রাথমিক ধারণা দিতে পারে। যেমন—
- সিরাম ক্যালসিয়াম
- ম্যাগনেশিয়াম
- ভিটামিন ডি
- কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষা
- শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের মাত্রা
যদি কারও পেশীতে টান ধরা, অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা হাড়ে ব্যথার মতো উপসর্গ থাকে, তবে এই পরীক্ষাগুলো করে দেখা যেতে পারে কোনও ঘাটতি রয়েছে কি না। বয়স বেশি হলে বা দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়ে উদ্বেগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে বোন ডেনসিটি স্ক্যান করানোর কথাও ভাবা যেতে পারে, বিশেষ করে যদি অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি থাকে।
ছবি: সংগৃহীত
তাহলে কী করা উচিত?
যাঁরা দীর্ঘদিন মিনারেলবিহীন RO জল পান করেছেন, তাদের প্রথমেই নিজের খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিদিনের খাবারে ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার, শাকসবজি, বাদাম এবং পর্যাপ্ত প্রোটিন থাকা জরুরি।
যদি পরীক্ষায় কোনও ঘাটতি ধরা পড়ে, তখন চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট দেওয়া যেতে পারে। তবে নিজে থেকে ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট শুরু করা ঠিক নয়। বর্তমানে অনেক RO সিস্টেমেই রিমিনারেলাইজেশন ফিচার বা মিনারেল কার্টিজ থাকে, যা জলের প্রয়োজনীয় খনিজ কিছুটা ফিরিয়ে দেয়। নিরাপদ হলে প্রাকৃতিক মিনারেলসমৃদ্ধ জলের উৎস ব্যবহারের কথাও ভাবা যেতে পারে।
সত্যিই কি ক্ষতি হয়?
অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র দীর্ঘদিন RO জল পান করার কারণে বড় ধরনের স্বাস্থ্যক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। বরং শরীরের সামগ্রিক সুস্থতা অনেক বেশি নির্ভর করে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার উপর। অর্থাৎ, RO ফিল্টার জলের কিছু উপকারী খনিজ কমিয়ে দিলেও, যদি খাবারে পর্যাপ্ত পুষ্টি থাকে, তবে তা সাধারণত স্বাস্থ্যের জন্য বড় কোনও সমস্যা তৈরি করে না।
