shono
Advertisement
Chandipura Virus

জ্বরের সঙ্গে বমি-খিঁচুনি! চাঁদিপুরা ভাইরাসে মস্তিষ্কে ছড়াচ্ছে সংক্রমণ, এই লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হোন

গুজরাটে বাড়ছে চাঁদিপুরা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা, প্রথমে সাধারণ ভাইরাল জ্বরের মতো উপসর্গ থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই মস্তিষ্কে প্রদাহ দেখা দিতে পারে। তবে আতঙ্ক নয়, দ্রুত চিকিৎসাই হতে পারে জীবন বাঁচানোর চাবিকাঠি।
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 12:40 PM Aug 05, 2026Updated: 01:46 PM Aug 05, 2026

গুজরাটে ফের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে চাঁদিপুরা ভাইরাস (Chandipura Virus)। সরকারের তথ্য বলছে, এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া অধিকাংশ আক্রান্তই ১৫ বছরের কম বয়সি শিশু। সংখ্যায় সংক্রমণ খুব বেশি না হলেও চিকিৎসকদের উদ্বেগের কারণ একটাই, এই ভাইরাস অত্যন্ত দ্রুত শরীরে প্রভাব ফেলে। অনেক ক্ষেত্রে জ্বর শুরু হওয়ার মাত্র ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই মস্তিষ্কে মারাত্মক প্রদাহ (অ্যাকিউট এনসেফালাইটিস) তৈরি হতে পারে। তাই সামান্য অসুস্থতা ভেবে অবহেলা করলে বিপদ বাড়তে পারে।

Advertisement

বিরল, কিন্তু মারাত্মক ভয়ঙ্কর
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের কথায়, চাঁদিপুরা ভাইরাস খুব কমন বা সাধারণ সংক্রমণ নয়। তবে এটি শিশুদের ক্ষেত্রে অত্যন্ত মারাত্মক রূপ নিতে পারে। শুরুতে রোগটি সাধারণ ভাইরাল জ্বর বলেই মনে হয়। কিন্তু ভাইরাসটি মস্তিষ্কে পৌঁছে গেলে পরিস্থিতি মুহূর্তে বদলে যেতে পারে। অনেক শিশুর অবস্থাই এক-দু'দিনের মধ্যে সংকটজনক হয়ে পড়ে। তাই সময় নষ্ট না করে চিকিৎসকের কাছে পৌঁছনোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কোন লক্ষণ দেখলে আর অপেক্ষা করবেন না?
প্রথম দিকে দেখা দিতে পারে তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, দুর্বলতা, অস্বাভাবিক খিটখিটে ভাব। কিন্তু এর পর যদি দেখা দেয় বারবার বমি, অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব বা ঝিমুনি, খিঁচুনি, আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন এবং অচেতন হয়ে পড়ার মতো কিছু, তাহলে এক মুহূর্তও দেরি না করে শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

লক্ষণকে অবহেলা নয়। ছবি: সংগৃহীত

এই রোগের সবচেয়ে বড় বিপদ এর গতি। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই সাধারণ জ্বর থেকে খিঁচুনি, জ্ঞান হারানো এবং মস্তিষ্কের গুরুতর সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। তাই দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করানোই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।

কীভাবে ছড়ায় এই ভাইরাস?
চাঁদিপুরা ভাইরাস একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে ছড়ায় না। এটি মূলত সংক্রমিত স্যান্ডফ্লাইয়ের কামড়ে ছড়ায়। কিছু গবেষণায় মশা ও অন্য কিছু পতঙ্গকেও সম্ভাব্য বাহক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্ষাকালে স্যান্ডফ্লাইয়ের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় গ্রাম ও বনাঞ্চল লাগোয়া এলাকায় বসবাসকারী শিশুদের সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

নির্দিষ্ট ওষুধ বা টিকা নেই
এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ বা অনুমোদিত টিকা নেই। তাই চিকিৎসার মূল ভরসা রোগীর নিবিড় পরিচর্যা। চিকিৎসকেরা রোগীর শরীরে পর্যাপ্ত তরল বজায় রাখা, খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণ, প্রয়োজনে মস্তিষ্কের প্রদাহ কমানো এবং শ্বাস-প্রশ্বাস-সহ গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক কার্যকলাপের উপর সর্বক্ষণ নজর রাখেন। যত দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা যায়, ততই সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা বাড়ে।

ভাইরাসের বাহক স্যান্ডফ্লাই। ছবি: সংগৃহীত

কীভাবে সন্তানের ঝুঁকি কমাবেন?

  • শিশুদের মশারির মধ্যে ঘুম পাড়ান
  • বয়স অনুযায়ী নিরাপদ ইনসেক্ট রিপেলেন্ট ব্যবহার করুন
  • শিশুকে শরীর ঢাকা পোশাক পরান
  • বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন, যাতে স্যান্ডফ্লাইয়ের বংশবিস্তার কমে

আতঙ্ক নয়, সতর্ক থাকুন
চাঁদিপুরা ভাইরাস বিরল সংক্রমণ। তাই অযথা ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু এই ভাইরাসের দ্রুত আক্রমণাত্মক রূপ নেওয়ার ক্ষমতাকে হালকাভাবে দেখারও সুযোগ নেই। জ্বরের সঙ্গে যদি খিঁচুনি, অস্বাভাবিক ঝিমুনি, আচরণে পরিবর্তন বা জ্ঞান হারানোর মতো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ, এই রোগে সময়ই সবচেয়ে বড় ওষুধ।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement