সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: প্রথমে দৃষ্টি কিছুটা ঝাপসা লাগে। ধীরে ধীরে চারপাশের জিনিস দেখার ক্ষমতা কমতে থাকে। শেষে এমন এক সময় আসে যখন চোখের সামনে শুধুই অন্ধকার। এই ভয়ানক অবস্থার নাম গ্লুকোমা। চিকিৎসকদের মতে, এটি একটি ‘নীরব ঘাতক’, কারণ অনেক ক্ষেত্রে রোগী বুঝতেই পারেন না যে তিনি দৃষ্টি হারাচ্ছেন। আইসিএমআর (ICMR)-এর সমীক্ষা বলছে, ভারতে গ্লুকোমা আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যেই কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে। এই সংখ্যা দিন দিন আরও বাড়ছে।
গ্লুকোমা আসলে কী?
চোখের ভেতরে এক ধরনের তরল বা ফ্লুইড প্রবাহিত হয়। যখন এই তরল চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়, তখন তা ভেতরে জমে গিয়ে চোখের অপটিক স্নায়ুর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। একে বলা হয় ‘ইন্ট্রাঅকুলার প্রেশার’। এই চাপের কারণে অপটিক নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মানুষ অন্ধত্বের দিকে এগিয়ে যায়। মনে রাখা জরুরি, গ্লুকোমায় একবার দৃষ্টি চলে গেলে তা আর কোনও চিকিৎসাতেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।
কাদের ঝুঁকি বেশি?
১) যাদের বয়স ৪০ বছরের ওপরে।
২) যাদের পরিবারে গ্লুকোমার ইতিহাস রয়েছে।
৩) ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা মায়োপিয়া থাকলে।
৪) যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই স্টেরয়েড জাতীয় আই ড্রপ, ক্রিম বা ইনহেলার ব্যবহার করছেন।
৫) চোখে পুরনো আঘাত বা অস্ত্রোপচারের ইতিহাস থাকলে।
৬) অন্ধকার ঘরে দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা ল্যাপটপের নীল আলোর ব্যবহার।
লক্ষণগুলো চিনে নিন
গ্লুকোমার শুরুর দিকে সেভাবে কোনও ব্যথা বা উপসর্গ থাকে না। তবে কিছু সংকেত এড়িয়ে চলা উচিত নয়।
১. পাশের জিনিস দেখার ক্ষমতা বা ‘সাইড ভিশন’ কমে আসা।
২. বারবার চশমার পাওয়ার পালটে যাওয়া।
৩. কম আলোয় কাজ করতে অসুবিধা।
৪. মাঝেমধ্যে মাথা ব্যথা বা চোখে যন্ত্রণা।
প্রতিরোধের উপায়
সচেতনতাই এই রোগের প্রধান ওষুধ। বছরে অন্তত দু’বার চোখের ডাক্তার দিয়ে পরীক্ষা করান। বিশেষ করে আপনার যদি ডায়াবিটিস থাকে বা পরিবারের কেউ গ্লুকোমায় আক্রান্ত থাকেন, তবে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনও ওষুধ বা ড্রপ চোখে দেবেন না। মনে রাখবেন, সময়মতো রোগ ধরা পড়লে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে অন্ধত্বের ঝুঁকি থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব।
