একসময় যে পিঠ কিংবা ঘাড়ের ব্যথাকে বার্ধক্যের লক্ষণ বলে মনে করা হত, আজ তা থাবা বসিয়েছে তরুণ প্রজন্মেও। স্কুলছুট কিশোর থেকে শুরু করে কর্পোরেট কর্মী— সকলেই আজ কমবেশি মেরুদণ্ডের ব্যথায় জর্জরিত। চিকিৎসকদের মতে, কোনও বড় চোট-আঘাত নয়, আমাদের দৈনন্দিন কিছু অসচেতন অভ্যাসের কারণেই তিলে তিলে ক্ষয় হচ্ছে শরীরের মূল স্তম্ভ তথা শিড়দাঁড়া। অবহেলার এই চোরাবালি থেকে মুক্তির উপায় কী?
ছবি: সংগৃহীত
আধুনিক মনস্কতায় সবথেকে বড় অভিশাপ হল একটানা বসে থাকার প্রবণতা। ডেস্কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নড়াচড়া না করে বসে থাকলে মেরুদণ্ডের ডিস্কের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি হয়। এর ফলে কোমরের বা পিঠের নিম্নাংশের পেশিগুলি তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারায়। পেশি দুর্বল হলেই শরীরের সমস্ত ভার গিয়ে পড়ে সরাসরি মেরুদণ্ডের হাড়ের ওপর। পরিণামে সঙ্গী হয় তীব্র যন্ত্রণা।
এর পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির অন্ধ মোহ। রাস্তাঘাট কিংবা লিভিং রুম— সর্বত্রই এখন মাথা ঝুঁকিয়ে স্মার্টফোন দেখার চেনা ছবি। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় এই বিপজ্জনক শারীরিক ভঙ্গিমাকে বলা হয় ‘টেক্সট নেক’। স্ক্রিনের দিকে এভাবে তাকিয়ে থাকার ফলে ঘাড়, কাঁধ এবং মেরুদণ্ডের উপরিভাগে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। দীর্ঘদিন এই অভ্যাস বজায় রাখলে শিড়দাঁড়ার স্বাভাবিক গঠন বা ‘অ্যালাইনমেন্ট’ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
ছবি: সংগৃহীত
রাতের বিশ্রামেও লুকিয়ে থাকছে বিপদ। অতিরিক্ত নরম গদি কিংবা খুব উঁচু বালিশ ব্যবহারের কারণে ঘুমের সময় মেরুদণ্ড সঠিক অবলম্বন বা ‘সাপোর্ট’ পায় না। ফলে সকালে ওঠার পরেই শরীর আড়ষ্ট লাগে। এছাড়া, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রার ফলে পেটে মেদ জমলে বা ভুঁড়ি হলে, শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে মেরুদণ্ডকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। এটিও দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার উৎস।
সবশেষে আসে ভারী বস্তু তোলার ভুল পদ্ধতি। মেঝে থেকে কিছু তোলার সময় হাঁটু না ভাঁজ করে সরাসরি কোমর বাঁকালে ‘স্লিপ ডিস্ক’ বা ‘লোয়ার ব্যাক ইনজুরি’-র মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই শরীরকে সচল রাখতে বসার ভঙ্গি বদলানো এবং কাজের ফাঁকে বিরতি নেওয়া একান্ত প্রয়োজন। সামান্য সচেতনতাই পারে এই যান্ত্রিক জীবনেও শিড়দাঁড়া সোজা রেখে বাঁচার শক্তি জোগাতে।
