ভয়াবহ তাপপ্রবাহে হাঁসফাঁস অবস্থা। উত্তরপ্রদেশের বান্দায় তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৪৮ ডিগ্রিতে, দিল্লিতেও পারদ ছুঁয়েছে প্রায় ৪৬ ডিগ্রি, কলকাতাও পিছিয়ে নেই। এই অসহনীয় গরমে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে বাইক ও স্কুটারচালকেরা। অফিসযাত্রী, ডেলিভারি কর্মী, গিগ ওয়ার্কার, প্রতিদিন রাস্তায় থাকা হাজার হাজার মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা সরাসরি রোদ, গরম হাওয়া আর তপ্ত রাস্তার মধ্যে চলাফেরা করছেন।
চিকিৎসকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘক্ষণ বাইক চালানো শরীরের উপর মারাত্মক চাপ তৈরি করে। অতিরিক্ত ঘাম, জলশূন্যতা, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, পেশিতে টান থেকে শুরু করে গুরুতর ক্ষেত্রে হিটস্ট্রোক পর্যন্ত হতে পারে। অনেক সময় শরীরের সমস্যা ধীরে ধীরে বাড়ে, কিন্তু আমরা বুঝতেই পারি না কখন বিপদ কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে।
দুপুরের রোদ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। ছবি: সংগৃহীত
কেন বাইকযাত্রা বেশি বিপজ্জনক?
গরমের দিনে বাইক চালানোর সময় শরীর একসঙ্গে বেশ কিছু সমস্যার মুখোমুখি হয়-
- সরাসরি সূর্যের তাপ
- গরম ও শুষ্ক হাওয়া
- গাড়ির ইঞ্জিনের উত্তাপ
- যানজটের কারণে গরম পরিবেশে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকা
- অতিরিক্ত ঘাম
তার উপর হেলমেট ও সেফটি গিয়ার শরীরের তাপ বাইরে বেরতে দেয় না। ফলে শরীর দ্রুত গরম হয়ে ওঠে এবং জলশূন্যতা আরও বাড়ে।
শরীরে জল কমছে কিনা বুঝবেন কীভাবে?
চিকিৎসকদের মতে, ডিহাইড্রেশন খুব দ্রুত তৈরি হতে পারে। প্রথমদিকে যে লক্ষণগুলি দেখা দেয়-
- মুখ শুকিয়ে যাওয়া
- বারবার তেষ্টা পাওয়া
- দুর্বল লাগা
- মাথাব্যথা
- পেশিতে টান
- প্রস্রাবের রং গাঢ় হয়ে যাওয়া
এই লক্ষণগুলি অবহেলা করলে বাইক চালানোর সময় মনোযোগে সমস্যা দেখা দিতে পারে, ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ে।
ভেন্টিলেশনযুক্ত হেলমেট এবং সানগ্লাস ব্যবহার করুন। ছবি: সংগৃহীত
দুপুরের রোদ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে দীর্ঘ বাইকযাত্রা না করাই ভালো। এই সময় রাস্তা থেকে অতিরিক্ত তাপ বেরোয়, তার সঙ্গে গরম হাওয়া পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তোলে। যদি বেরতেই হয়-
- মাঝেমধ্যে ছায়ায় দাঁড়িয়ে বিশ্রাম নিন
- অল্প অল্প করে বারবার জল পান করুন
- দীর্ঘক্ষণ রোদে দাঁড়িয়ে থাকবেন না
- শুধু জল নয়, দরকার ইলেক্ট্রোলাইটও
গরমে ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে প্রয়োজনীয় নুনও বেরিয়ে যায়। তাই শুধু জলপানই সবসময় যথেষ্ট হয় না। সঙ্গে রাখতে পারেন-
- ওআরএস
- ডাবের জল
- ইলেক্ট্রোলাইট ড্রিঙ্ক
অতিরিক্ত চা, কফি, কোমল পানীয় বা অ্যালকোহল শরীরকে আরও ডিহাইড্রেট করে। তাই এগুলো এড়িয়ে চলুন।
কেমন পোশাক পরবেন?
গরমে এমন পোশাক দরকার যা শরীরকে রোদ থেকে বাঁচাবে, আবার বাতাসও চলাচল করতে দেবে। হালকা রঙের ফুলহাতা সুতির পোশাক পরুন। ভেন্টিলেশনযুক্ত হেলমেট এবং সানগ্লাস ব্যবহার করুন।
হিটস্ট্রোকের লক্ষণ অবহেলা নয়
চিকিৎসকদের মতে, হিটস্ট্রোকের আগে শরীর কিছু সতর্কবার্তা দেয়। যেমন-
- মাথা ঘোরা
- বমিভাব
- অস্থিরতা
- অতিরিক্ত দুর্বলতা
শরীরের সতর্ক সংকেতকে অবহেলা নয়। ছবি: সংগৃহীত
শরীর অস্বাভাবিক গরম হয়ে যাওয়া
পরিস্থিতি গুরুতর হলে শরীর ঘাম বন্ধও করে দিতে পারে। তখন দ্রুত চিকিৎসা না হলে বিপদ বাড়তে পারে।
খাবারেও দরকার সতর্কতা
এই গরমে ভারী তেলমশলাদার খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো। তার বদলে খেতে পারেন-
- তরমুজ, শসা, ডাবের মতো জলসমৃদ্ধ খাবার
- হালকা ও সহজপাচ্য খাবার
- ফল ও তরলজাতীয় খাবার
- গরমে খাবার দ্রুত নষ্ট হয়। ফলে পেটের সংক্রমণ, ডায়রিয়া বা বমির ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
ঘুম কম হলে বাড়ে ঝুঁকি
অতিরিক্ত গরমের সঙ্গে যদি ঘুমের অভাব যোগ হয়, তাহলে ক্লান্তি ও মনোযোগের সমস্যা আরও বাড়ে। এতে রাস্তায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের কথায়, এই ভয়াবহ গরমে বাইকচালকদের সবচেয়ে বড় সুরক্ষা হল নিয়মিত জল পান, শরীর ঠান্ডা রাখা, দুপুরের চড়া রোদ এড়ানো এবং শরীরের সতর্ক সংকেতকে গুরুত্ব দেওয়া।
