বাড়িতে দীর্ঘদিন পোষ্য কুকুর (pet dog) থাকলে সন্তানের সমতুল্য হয়ে ওঠে। তার সঙ্গে জুড়ে যায় রোজের হাসি-কান্না, ছোট বড় নানা মুহূর্তের অনুভূতি। কিন্তু সন্তানের মতোই তাকে ঘিরেও উদ্বেগ উৎকণ্ঠা লেগেই থাকে। কুকুরের বয়স মানুষের তুলনায় দ্রুত এগোয়। অর্থাৎ পাঁচ বছর বয়সে যেখানে মানুষ নেহাতই শিশু, সেখানে কুকুর ওই বয়সে পৌঁছে নিতান্তই বৃদ্ধ হয়ে পড়ে। আর বৃদ্ধ হওয়া মানেই সম্ভাবনা রয়ে যায় আর্থারাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার।
আর্থারাইটিস হওয়া থেকে কীভাবে বাঁচানো যায় পোষ্যটিকে, জানেন? কী কী করলে দীর্ঘদিন অবধি রোগমুক্ত থাকবে সে, জেনে নিন। পশুচিকিৎসকরা জানাচ্ছেন বিশদে।
বাড়ির মেঝে যদি অতিরিক্ত মসৃণ হয়, তবে তাতে পোষ্যটির পা হড়কে যায়
কুকুরের ওজন খেয়াল রাখুন
মানুষের মতোই পোষ্য কুকুরের ওজন যদি বয়সকালে অতিরিক্ত বেড়ে যায়, তবে সহজেই গাঁটে যন্ত্রণা হতে পারে। তাই রোজের খাবারে কী কী জিনিস দেওয়া হচ্ছে তাকে, সেদিকে নজর রাখার প্রয়োজন রয়েছে। নিয়মিত ওজন মাপতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনে কমাতে হবে খাবারের পরিমাণ।
নিয়মিত সচল রাখতে হবে
একবার ওজন বেড়ে গেলে, পোষ্যটিকে কম খাবারে অভ্যেস করানো রীতিমতো কঠিন হয়ে যায়। তাই সবসময়েই যাতে তাকে হাঁটাচলার মধ্যে রাখা যায়, সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। হাঁটার পাশাপাশি যদি দৌড় করানো যায়, অথবা সাঁতার কাটাতে নিয়ে যাওয়া যায়, তবে ওজন আচমকা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
বাড়ির পরিবেশ প্রাণীটির বাসের অনুকূল তো?
কুকুরের পায়ের গড়ন মানুষের থেকে আলাদা। বাড়ির মেঝে যদি অতিরিক্ত মসৃণ হয়, তবে তাতে পোষ্যটির পা হড়কে যায়। প্রতিবার হয়তো সে পড়ে যায় না, কিন্তু দীর্ঘদিন এমন হলে পায়ের পেশিতে টান ধরে। তাই খেয়াল রাখতে হবে, যদি কারপেট অথবা ম্যাট পেতে রাখা যায়, যার উপর হাঁটলে কুকুরটির পায়ে চাপ পরে না।
পোষ্যকে হাঁটাচলার মধ্যে রাখুন।
প্রয়োজনে সাপ্লিমেন্ট বেছে নিন
আর্থারাইটিস হয়েছে বোঝা গেলে তবেই যে হেলথ সাপ্লিমেন্ট খাওয়ানো শুরু করা যাবে, এমন নয়। সময় থাকতেই পরামর্শ নিন আপনার পশুচিকিৎসকের। কুকুরটির জয়েন্ট হেলথ ভালো রাখতে কাজে দেয়, এমন সাপ্লিমেন্ট খাওয়াতে পারেন আগে থেকেই। এতে হাড়ের রোগ হওয়া খানিক আটকানো যায়। সাপ্লিমেন্টে উপাদান হিসেবে ওমেগা-থ্রি থাকলে, তা হাড় মজবুত করে।
বাড়িতে থাকা চারপেয়ে সদস্যটির কেবল খাওয়ার দায়িত্ব নেওয়াই যথেষ্ট নয়। তার স্বাস্থ্যের প্রতিও সদা সচেতন থাকতে হয়। কোনও রকম রোগের লক্ষ্মণ দেখলে অবহেলা করবেন না। তৎক্ষণাৎ পরামর্শ নিন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের।
