মধ্যবিত্তের কপালে চিন্তার ভাঁজ। ঝিঙে থেকে পটল— যুদ্ধ আবহে সবকিছুর দাম আকাশছোঁয়া। পকেটের টান সামলাতে অনেকেই কাটছাঁট করছেন রোজকার মেনুতে। কিন্তু পুষ্টির সঙ্গে আপস না করে বিকল্প পথ দেখাচ্ছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। বাড়ির একফালি জমি বা ছাদের টবই হতে পারে আপনার মুশকিল আসান। খুব কম সময়ে এবং অল্প পরিশ্রমে ফলানো যায় এমন কিছু সবজি , যা চাষ করলে বাজারের ওপর নির্ভরতা কমবে অনেকটাই। সবচেয়ে বড় কথা হল, এই সবজি ফলাতে সময় লাগে খুবই কম ( Fast Growing Vegetables)। কী কী? দেখে নিন।
ফাইল ছবি
পালং ও লেটুস: দ্রুত ফলন পেতে পালংশাক ও লেটুসের জুড়ি নেই। মাটিতে বীজ ছড়ানোর মাত্র ৩-৪ সপ্তাহের মধ্যেই পালং খাওয়ার উপযুক্ত হয়ে ওঠে। ছায়াযুক্ত জায়গাতেও এই শাক ভালো বাড়ে। অন্যদিকে, বারান্দার টবে লেটুস লাগিয়ে খুব সহজেই স্যালাডের জোগান নিশ্চিত করা সম্ভব। এই দুই সবজির ক্ষেত্রেই খুব বেশি সারের প্রয়োজন পড়ে না, শুধু নিয়মিত জল দিলেই কেল্লাফতে।
ফাইল ছবি
কাঁচালঙ্কা ও পেঁয়াজ: রোজকার রান্নায় কাঁচালঙ্কা মাস্ট। নার্সারি থেকে চারা আনতে পারেন। কিংবা দানা ছড়িয়ে চারা বের করে নইতে পারেন। টবে বসালে মাস খানেকের মধ্যেই গাছে লঙ্কার বাহার দেখা যাবে। একই ভাবে পেঁয়াজ কলি বা ছোট পেঁয়াজ পেতে খুব একটা কসরত করতে হয় না। ফেলে রাখা পেঁয়াজ থেকেও গাছ বের করে দ্রুত ফলন পাওয়া সম্ভব। এতে রসুইঘরের ছোটখাটো প্রয়োজন মিটবে ঘরেই।
ফাইল ছবি
মুলো ও গাজর: মুলো ও গাজর চাষের জন্য একটু ঝুরঝুরে মাটির প্রয়োজন। বীজ বোনার ৩০ থেকে ৪০ দিনের মধ্যে কচি মুলো তুলে নেওয়া যায়। গাজরের ক্ষেত্রে সময় একটু বেশি লাগলেও ঘরোয়া উপায়ে চাষ করা গাজরের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ বাজারের তুলনায় অনেক বেশি। রোদ ঝলমলে জায়গায় এই দুই সবজি সবচেয়ে ভালো বাড়ে।
ফাইল ছবি
শসা ও ঢেঁড়স: গ্রীষ্মের বাজারে স্বস্তি দেয় শসা। সামান্য মাচা করে দিলে শসা গাছ হুড়মুড় করে বাড়ে। এর পাশাপাশি ঢেঁড়স চাষও অত্যন্ত লাভজনক। একবার গাছ বড় হয়ে গেলে রোজই দুই-চারটে করে ঢেঁড়স তোলা যায়। ঘরোয়া জৈব সার ব্যবহার করলে এই সবজিগুলোর ফলন বাড়ে দ্বিগুণ।
বাজারের আগুন দরে দগ্ধ না হয়ে নিজের হাতে ফলানো বিষমুক্ত সবজিতে ফিরুক রসনা। এতে যেমন টাকা বাঁচবে, তেমনই সুস্বাস্থ্যের নিশ্চয়তা মিলবে ঘরে ঘরে। তাই দেরি না করে আজই হাতে তুলে নিন কোদাল। স্বনির্ভরতার শুরুটা হোক নিজের বাগান থেকেই।
