রান্নাঘরের হাজারো ঝক্কি সামলাতে গিয়ে আমরা অনেকেই একটু ‘শর্টকাট’ খুঁজি। তার মধ্যে সবথেকে কমন হল একবারে অনেকটা আটা মেখে ফ্রিজে পুরে রাখা। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে পরদিন সকালে। ফ্রিজ খুললেই দেখা যায়, সাধের আটা কালচে হয়ে গিয়েছে। আর তা দিয়ে বানানো রুটি যেন ঠিক কামড় দেওয়া যায় না। একেবারে শক্ত চামড়ার মতো খেতে লাগে! উপরন্তু একটা টক গন্ধ তো আছেই। চিন্তা নেই! কয়েকটা সহজ ট্রিক (Atta Dough Storage Tips) জানা থাকলে ফ্রিজে রাখা আটাতেও হবে ধোঁয়া ওঠা নরম তুলতুলে রুটি। কী অবাক হচ্ছেন তো? জেনে নিন কীভাবে!
ফাইল ছবি
১) অনেকেই তাড়াহুড়ো করে ঠান্ডা জল দিয়ে আটা মাখেন, এটাই প্রথম ভুল। রুটি যদি তুলোর মতো নরম করতে চান, তবে সবসময় হালকা গরম জল ব্যবহার করুন। একবারে সব জল না ঢেলে অল্প অল্প করে মেশান এবং হাতে অন্তত ৫-১০ মিনিট সময় নিয়ে ভালো করে ঠাসুন। আটা খুব বেশি শক্ত বা খুব বেশি নরম হবে না, হবে একদম মোলায়েম।
২) আটা মাখা হয়ে গেলে মণ্ডটির গায়ে সামান্য ঘি বা সাদা তেল মাখিয়ে নিন। তেলের এই পাতলা আস্তরণটি আটাকে বাইরের বাতাসের অক্সিজেন থেকে আড়াল করে রাখে। ফলে ‘অক্সিডেশন’ হতে পারে না। এতে আটার রং কালো হওয়া থেকে আটকায়।
৩) খোলা অবস্থায় বা সাধারণ বাটিতে আটা ফ্রিজে রাখা মানেই বিপদ। এতে আটা শুকিয়ে খটখটে হয়ে যায়। তাই সবসময় একটি এয়ারটাইট স্টিল বা কাচের পাত্র ব্যবহার করুন। যদি প্লাস্টিকের পাত্র ব্যবহার করতেই হয়, তবে তা যেন অবশ্যই ফুড-গ্রেড হয়। পাত্রটি বায়ুরোধী হলে বাইরের আর্দ্রতা ভেতরে ঢুকতে পারবে না। ফলে ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত আটা থাকবে একদম ফ্রেশ।
ফাইল ছবি
৪) ফ্রিজ থেকে বের করেই সরাসরি রুটি বেলতে শুরু করবেন না। অন্তত আধ ঘণ্টা আগে ফ্রিজ থেকে আটা বের করে সাধারণ তাপমাত্রায় রাখুন। এরপর হালকা হাতে আরও একবার মেখে নিয়ে রুটি বেলুন। দেখবেন, রুটি ফুলবেও ভালো আর দীর্ঘক্ষণ নরম থাকবে।
মনে রাখা জরুরি
কালচে হয়ে যাওয়া বা টক গন্ধযুক্ত আটা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য মোটেও ভালো নয়। তাই কষ্ট করে আটা যখন মাখছেনই, তখন সংরক্ষণের এই সঠিক পদ্ধতিগুলো মেনে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। এতে স্বাদ ও স্বাস্থ্য দুই-ই বজায় থাকবে।
