গৃহস্থের বাড়িতে বাসা বাঁধে ঘুণপোকা, অথচ ঘুণাক্ষরেও টের পেতে দেয় না গৃহস্থকে! যতক্ষণে চোখে পড়ে, ততক্ষণে হয়তো শখের কাঠের আসবাবটি ভিতর থেকে ঝুরঝুরে হয়ে গিয়েছে। মাটির ঢিবিতে ঢিবিতে ভরে গিয়েছে সর্বত্র। ছোঁয়া লাগামাত্রই ভেঙে পড়ে চোখের সামনে। কিন্তু সময় থাকতে কীভাবে খুঁজে বের করা যায় ঘুণপোকা (termite)? কী করেই বা নিষ্কৃতি পাওয়া যায় তার হাত থেকে? রইল বাড়ির দামী আসবাবটি ঘুণের হাত থেকে বাঁচানোর সহজ উপায়।
১। পোকা মারার স্প্রে ব্যবহার করার আগে, নিশ্চিত হয়ে নিন যে আসবাবটির গায়ে যে ক্ষত, তা ঘুণপোকারই কাজ। পিঁপড়ে নয়! অনেক সময় বহু বছরের পুরনো হলে এমনিও ধসে পড়ে কাঠের আসবাব।
নিশ্চিত হয়ে নিন যে, আসবাবটির গায়ে যে ক্ষত, তা ঘুণপোকারই কাজ।
২। যে কোনও কেমিক্যাল স্প্রে ব্যবহারের বদলে কেবলমাত্র লিকুইড টার্মিসাইড-ই ব্যবহার করুন। ভালো মানের টার্মিসাইড যেন বর্মের মতো আগলে রাখে আসবাবটি। বছরের পর বছর ধরে ঘুণপোকা তা ছুঁতে পারে না।
৩। অনেক সময়ে বাড়িতে খুদে সদস্যরা অথবা পোষ্য থাকলে, টার্মিসাইড ক্ষতিকর হতে পারে। সেক্ষেত্রে কেমিক্যাল ছাড়া কীভাবে ঘুণপোকা তাড়ানো যায়, তা দেখতে হবে। যে আসবাব বা কাঠের দেওয়ালটিতে ঘুণ ধরেছে, তার একেবারে কাছে লণ্ঠন অথবা একাধিক জোরাল আলো জ্বেলে দিতে হবে। তাপমাত্রা ১২০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের উপর উঠলে ঘুণ ছেড়ে যেতে বাধ্য।
৪। যদি ছোট অংশে ঘুণ লেগে থাকে, তবে লিকুইড নাইট্রোজেন স্প্রে করে তা থামানো যেতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে এ বিষয়ে অভ্যস্তদের সাহায্য নেওয়াই ভালো।
যদি ছোট অংশে ঘুণ লেগে থাকে, তবে লিকুইড নাইট্রোজেন স্প্রে করে তা থামানো যেতে পারে।
৫। যে কোনও পোকা মারতে কাজে লাগে বোরিক অ্যাসিড। সেক্ষেত্রেও ব্যবহারের আগে সাবধান হতে হবে। বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়াই ভালো।
তবে যদি কাঠের দেওয়ালের অনেকখানি ঘুণ লেগে হয়ে যায়, বা দেওয়াল ঘেঁষে দাঁড় করিয়ে রাখা পুরনো কাঠের আসবাবটিকে ঝাঁঝরা করার পর যদি ঘুণ ছড়িয়ে পড়ে দেওয়ালটিতেও, তবে সাবধান হতে হবে। বাড়ির ছোটখাটো টোটকা এক্ষেত্রে কাজ করবে না। বরং দ্রুত ডেকে নেওয়া যেতে পারে পেস্ট কনট্রোল সংস্থাকে। ভুললে চলবে না যে দেখতে নির্ঝঞ্ঝাট মনে হলেও, ঘুণপোকা একবার ঘাঁটি গাড়লে সহজে ছেড়ে যেতে চায় না।
