গরমে নাজেহাল অবস্থা বঙ্গবাসীর। তীব্র দাবদাহে গলদঘর্ম দশা। আর এই অবস্থা থেকে বাঁচতে এসি-ই একমাত্র ভরসা। অফিস হোক বা নিজের বাড়ি, এসি ছাড়া জ্যৈষ্ঠের এই গরম কাটানো মুশকিল। তাই, তড়িঘড়ি যেমন করেই হোক দোকান থেকে একটা এসি বাগিয়ে আনতে পারলেই কেল্লাফতে! সেইমতো দোকান থেকে আনা হল নয়া এসি। ব্র্যান্ড আর স্টার রেটিং দেখেই কেনা। অথচ বাড়িতে এনে ক'দিন চালিয়েই গেরো! নতুন এসি চলতে চলতে বন্ধ! ব্যাপারটা কী?
দোকানে গিয়ে আমরা শুধু ব্র্যান্ড আর স্টার রেটিং খুঁজেই ধন্য হই। বিক্রেতার মিষ্টি কথায় ভুলে একবারও ‘কন্ডেন্সার কয়েল’ নিয়ে মাথা ঘামাই না। আর এখানেই বড় ভুলটা করে ফেলি। বাজারে মূলত দু’ধরনের কয়েলের এসি মেলে— কপার এবং অ্যালুমিনিয়াম। গরমে কার পারফরম্যান্স কেমন, তা খতিয়ে দেখা যাক।
ফাইল ছবি
১. ঠান্ডা করার লড়াই: ঘর ঠান্ডা করার দৌড়ে কপার কয়েল অনেক এগিয়ে। এর তাপ পরিবাহিতা দারুণ। ফলে বোতাম টিপতেই ঘর কনকনে ঠান্ডা হয়। অন্যদিকে, অ্যালুমিনিয়াম বেশ কিছুটা সময় নেয়।
২. স্থায়িত্ব ও আয়ু: তামার কয়েল অত্যন্ত মজবুত। বছরের পর বছর অবলীলায় চলে। কিন্তু অ্যালুমিনিয়াম বেশ নরম ধাতু। ফলে সামান্য চাপেই লিক হওয়ার বা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। মাঝগরমে হুট করে এসি বন্ধ হওয়ার খলনায়ক কিন্তু এটাই।
৩. মেরামতের হ্যাপা: কপারের কয়েল লিক হলে সামান্য খরচে গ্যাস ওয়েল্ডিং করে নেওয়া যায়। কিন্তু অ্যালুমিনিয়ামের কয়েল বিগড়ে গেলে জোড়াতালি দেওয়া অসম্ভব। পুরো কয়েলটাই বদলে ফেলতে হয়, যা পকেটের পক্ষে বেশ ঝক্কির।
ফাইল ছবি
৪. দাম ও ওজন: শুরুতে কপার কয়েলের এসির দাম একটু বেশি পড়ে। তামা ওজনেও বেশ ভারী। সেই তুলনায় অ্যালুমিনিয়াম কয়েল ওজনে হালকা এবং দামেও বেশ সস্তা।
তাহলে কোন দিকে ঝুঁকবেন?
পকেটের জোর কম থাকলে, সাময়িক ব্যবহারের জন্য বা ভাড়া বাড়ির ক্ষেত্রে অ্যালুমিনিয়াম চলনসই হতেই পারে। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী আরাম আর নিশ্চিন্তি চাইলে কপার কয়েলের কোনও বিকল্প নেই। সামান্য টাকা বাঁচানোর চক্করে সস্তার অ্যালুমিনিয়াম কয়েল কিনে বাড়ি ফিরলে, মাঝগরমে মেরামত করতেই দ্বিগুণ টাকা খসতে পারে। তাই সাধের এসি কেনার আগে কয়েলের দিকে নজর দিন। ভুল সিদ্ধান্ত নিলে কিন্তু এসি শুধু হাওয়া দেবে, ঠান্ডা নয়!
