বাঙালির হেঁশেলে খুন্তির শব্দ থামে গভীর রাতে। সকালের লুচি-আলুরদম থেকে শুরু। দুপুরের দেশি মুরগির ঝোল। আর রাতে ঝিঙে-কুমড়ো পাতুরি। হেঁশেলে মা অন্নপূর্ণার সদা অবস্থান। কিন্তু এই রান্নার ব্যস্ততায় কয়েকটি ব্যাপারে সচেতন না থাকলেই ঘটতে পারে বিপদ। রান্নার তোড়জোড় লেগে থাকায় গ্যাস ওভেন যথাযথ নিরাপদে রাখা অত্যন্ত জরুরি। একটু অসাবধান হলেই ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। ওভেনের আশেপাশে এমন কিছু জিনিস আমরা প্রায়ই অবহেলায় রেখে দিই। যা আগুনের শিখা দেখলেই রাক্ষসের মতো গ্রাস করতে ছুটে আসে। সুরক্ষার খাতিরে কোন কোন জিনিস আজই সরাবেন? জেনে নিন।
প্রতীকী ছবি
১) রান্না করতে করতে হাত মোছার জন্য কাপড়ের ন্যাপকিন বা টাওয়াল ওভেনের ঠিক পাশেই রাখার অভ্যাস অনেকের। কড়াইয়ের ছ্যাঁকা লাগা বা গরম তেল ছিটকে আসা রুখতে এটিই যেন প্রথম ভরসা। তবে মনে রাখবেন, আগুনের শিখা সামান্য একটু ওড়ার সুযোগ পেলেই এই সুতির কাপড়ে আগুন লেগে যেতে পারে। মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন ছড়িয়ে পড়বে পুরো রান্নাঘরে। তাই কাপড় সবসময় রাখুন নিরাপদ দূরত্বে।
২) তেল ছাড়া বাঙালির রান্না অসম্ভব। কিন্তু তেলের বোতলটি ওভেনের একেবারে গা ঘেঁষে রাখবেন না। ওভেনের অতিরিক্ত তাপে প্লাস্টিকের তেলের বোতল গলে যেতে পারে। এমনকী গরম তেলের সংস্পর্শে এলে আগুন ছড়াতেও সময় লাগবে না। তেল রাখুন একটু দূরের তাকে।
৩) অনেকেরই স্বভাব রান্নার কাউন্টারটপে প্লাস্টিকের প্যাকেট, মশলার মোড়ক কিংবা কাগজের ব্যাগ জমিয়ে রাখা। ওভেনের তাপে এই শুষ্ক কাগজ বা পাতলা প্লাস্টিক নিমেষে জ্বলে উঠতে পারে। তাই রান্নার স্ল্যাব পরিষ্কার ও ফাঁকা রাখুন।
প্রতীকী ছবি
৪) দেশলাই বাক্স কিংবা লাইটার ওভেনের একদম কাছে রাখা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। অতিরিক্ত গরমে লাইটার ফেটে গিয়ে বড় বিপদ হতে পারে। আবার ছোটদের হাতের নাগালে এলে তো কথাই নেই। এগুলো লুকিয়ে রাখুন ড্রয়ারে। একইভাবে, কাগজ বা কার্ডবোর্ডের তৈরি মশলার বাক্সগুলো আগুনের জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। সামান্য অসতর্কতায় এগুলোতে আগুন লেগে যেতে পারে। রান্নাঘরের আশেপাশে এই জাতীয় জঞ্জাল জমতে দেবেন না।
৫) আজকাল অনেকেই কাঠের খুন্তি বা চপিং বোর্ড ব্যবহার করেন। এগুলো দীর্ঘক্ষণ আগুনের পাশে থাকলে গরমে ফেটে যেতে পারে বা পুড়ে কালো হয়ে যায়। কাঠের গায়ে লেগে থাকা তেল আগুনের সংস্পর্শে এলে তা দ্রুত জ্বলতে শুরু করে। কাজ ফুরোলেই এগুলো ওভেন থেকে দূরে সরিয়ে ধুয়ে রাখুন।
৬) লবণ, চিনি বা মশলার কৌটো ওভেনের পাশে সাজিয়ে রাখলে রান্নার সুবিধা হয় ঠিকই, তবে আগুনের তাপে আর ভাপে মশলার গন্ধ ও গুণমান দুই-ই নষ্ট হয়। কৌটোর গায়ে চিটচিটে আঠালো ময়লাও জমে। তাই এই সব কৌটোকে ওভেনের ‘ব্লাস্ট জোন’ থেকে দূরে রাখাই শ্রেয়। ঘিঞ্জি পরিবেশ দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। ওভেনের চারপাশ শুকনো আর ফাঁকা রাখুন। নিরাপদ হেঁশেলই কিন্তু নিশ্চিন্ত রান্নার আসল জাদুঘর।
