সকাল থেকে সন্ধে পর্যন্ত সবচাইতে বেশি সময় বোধহয় স্মার্টফোনটি হাতে নিয়েই কেটে যায় মানুষের! তার সবটা তো আর অকারণ স্ক্রোল করে যাওয়া নয়, সারাদিনের প্রতিটি কাজের সঙ্গে যেন অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে গিয়েছে এই যন্ত্র। অফিসের জরুরি নোটিফিকেশন হোক বা অনলাইন শপিং, চটজলদি খাবার আনানোর প্রয়োজন হোক, বা রাস্তায় বেরিয়ে ম্যাপ দেখে নেওয়া— স্মার্টফোন ছাড়া গতি নেই!
কিন্তু এ থেকেও যে ভয়াবহ সংক্রামক রোগের সম্ভাবনা থেকে যায়, তা আর ভেবে দেখি না আমরা। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, আণুবীক্ষণিক জীবাণুতে ভর্তি থাকে আমাদের ফোন। সারাদিন আমরা যা কিছু ছুঁই না কেন, মোবাইল ফোনটিও ছুঁই সেই একই হাতে। অথচ বাকি সব জিনিস পরিষ্কার করলেও ফোন পরিষ্কার করা হয় না। ফলে ট্রেন-বাসের দরজার রড, এমনকী টয়লেট সিটের থেকেও বেশি ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে একটি মোবাইল ফোনের গায়ে! যা সরাসরি পেটে গিয়ে নানারকমের সংক্রামক রোগ, স্টমাক ফ্লু, ডায়েরিয়া প্রভৃতি বাধাতে পারে।
চোখে দেখা যায় না এমন আণুবীক্ষণিক জীবাণুতে ভর্তি থাকে আমাদের ফোনটি
স্মার্টফোন ছাড়া চলা যাবে না রোজের জীবনে। বরং শিখে নেওয়া যেতে পারে ফোনটি পরিষ্কার করার সহজ উপায়।
১। মেডিকেটেড ওয়েট ওয়াইপ দিয়ে যতটা সম্ভব শুকনো করে মুছে ফেলুন মোবাইল ফোনের গা। কেবল পোর্ট যেন ভিজে না যায়, সে বিষয়ে সচেতন থাকলেই হবে।
২। ফোনের গায়ে সরাসরি স্যানিটাইজার জাতীয় অ্যালকোহল-বেসড তরল স্প্রে করবেন না। বরং গণমাধ্যমে যাত্রা করার সময় যদি হ্যান্ডেল বা সিট বাধ্যত ছুঁতে হয়, তবে তারপর ফোন ধরার আগে হাতে স্প্রে করে নিন স্যানিটাইজার।
৩। হাত দিয়ে খাবার খেতে হলে, সেই হাতে কখনওই ফোন ধরবেন না। যে কোনও খাবার খাওয়ার আগে ও পরে হাত ধোয়া রোজের অভ্যেসের মধ্যে এনে ফেলতে হবে। এতে কেবল ফোন নয়, সব রকমের সংক্রমণের সম্ভাবনাই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
মেডিকেটেড ওয়েট ওয়াইপ দিয়ে শুকনো করে মুছে ফেলুন মোবাইল ফোনের গা
৪। স্মার্টফোন যখন ব্যবহার করছেন না, তখন সেটি ব্যাগে অথবা পকেটে রাখুন। পাবলিক প্লেসে যে কোনও টেবিল, বেঞ্চ অথবা ডেস্কে তা নামিয়ে রাখবেন না। মনে রাখবেন, এমন অগণিত জীবাণু আমাদের চারপাশের প্রতিটি জিনিসে ছড়িয়ে থাকে, তা খোলা চোখে দেখতে পাওয়া যায় না।
স্নান করা অথবা জামাকাপড় কাচার মতোই প্রাত্যহিক রুটিনের অংশ করে তুলুন স্মার্টফোন পরিষ্কার করা। একবার অভ্যাসে এনে ফেলতে পারলে, তা আর আলাদা করে ঝক্কির কাজ বলে মনে হবে না।
