মার্চের শেষেই উত্তরবঙ্গে যেন বর্ষার আমেজ। লাগাতার বৃষ্টি চলছে পাহাড়ি জেলাগুলিতে। সিকিমের বিস্তীর্ণ এলাকাতেও চলছে তুমুল বৃষ্টি। তুষারপাতে বিপর্যস্ত ছাঙ্গু। কিন্তু গ্রীষ্মের শুরুতে কেন আচমকা ভোলবদল ঘটাচ্ছে প্রকৃতি? নেপথ্যে রয়েছ হাজার কিলোমিটার লম্বা এলাকায় ছড়িয়ে থাকা ঘূর্ণাবর্ত। আফগানিস্তান এবং পাকিস্তান পেরিয়ে এই ঘূর্ণাবর্ত ভারতে এসে পৌঁছেছে বলেই জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
ঠিক কী সমস্যা বাঁধছে বিশাল ঘূর্ণাবর্তের জেরে? আবহবিদরা মনে করছেন, ভূমধ্যসাগরীয় এলাকা থেকে তৈরি হয়েছে এই ঘূর্ণাবর্ত। ভারতের উত্তর-পশ্চিম প্রান্ত থেকে ঢুকছে ঘূর্ণাবর্তটি। তার জেরেই হিমালয়ের পাদদেশীয় এলাকাগুলিতে চলছে প্রবল ঝড়বৃষ্টি, স্বাভাবিকের তুলনায় কমছে তাপমাত্রা। সেকারণেই বেশ কয়েকদিন ধরে ভিজছে উত্তরবঙ্গ এবং সিকিম। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া দক্ষিণবঙ্গেও। বৃহস্পতিবারই একটানা তুষারপাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ছাঙ্গু। বন্ধ যান চলাচল।
কেবল বাংলা নয়, আগামী দু-তিন দিনে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলেই হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস। দাক্ষিণাত্যের কর্নাটক, কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ুতে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কম তীব্রতার সাইক্লোন হতে পারে মধ্যভারতের একাধিক রাজ্যে। ভারতের পশ্চিমাঞ্চলের পার্বত্য রাজ্যগুলিতেও রয়েছে দুর্যোগের সম্ভাবনা। দিল্লিতে ৫০ কিমি বেগে হাওয়া বইতে পারে। কলকাতায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া এবং শিলাবৃষ্টিরও পূর্বাভাস রয়েছে।
কিন্তু মার্চের শেষেই কেন এভাবে বৃষ্টি শুরু হচ্ছে দেশজুড়ে? সেটাই ভাবাচ্ছে আবহবিদদের। তাঁরা মনে করছেন, ভারতের জলবায়ু ক্রমেই বদলে যাচ্ছে। পশ্চিম দিক থেকে তৈরি হওয়া ঘূর্ণাবর্তের কার্যকারিতা এবং স্থায়িত্ব বাড়ছে। দেশজুড়ে বাড়ছে বৃষ্টির পরিমাণ। কেবল ভারত নয়, পড়শি পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের ছবিটাও একইরকম। গত বছর বারবার বন্যার কবলে পড়েছে পাকিস্তান। মৃত্যু হয়েছে বহ মানুষের। গত কয়েকদিন ধরে পাকিস্তানের নানা অংশেও চলছে শিলাবৃষ্টি। গতবছর আফগানিস্তানের ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা হাজার পেরিয়েছে। প্রকৃতির রুদ্ররোষে আগামী দিনে ওই এলাকাগুলিতে আবারও ভয়াবহ বন্যা দেখা দেবে, আশঙ্কা আবহবিদদের।
