সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: প্রবল ঠান্ডা আর ঘন কুয়াশার কারণে রাস্তা একেবারে শুনশান ছিল। তার সুযোগ নিয়েই প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে ভ্যানে আটকে রাখা হয়েছিল তরুণীকে। পরিত্রাণ পেতে আর্তনাদও করেছিলেন তিনি। কিন্তু রেহাই মেলেনি। ফরিদাবাদ গণধর্ষণকাণ্ডের তদন্তে নেমে এমনটাই জানতে পারলেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, নির্যাতিতা এতটাই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে রয়েছেন যে, ঠিক করে কথাও বলতে পারছেন না।
ফরিদাবাদ পুলিশ ইতিমধ্যেই দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। যে হেতু নির্যাতিতা তাঁদের এখনও চিহ্নিত করেননি, তাই তাঁদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ। তবে তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, দুই ধৃতই উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা। একজন ঝাঁসির, অন্যজন মথুরার। নির্যাতিতা সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত টিআই প্যারেড করা সম্ভব নয় বলেই জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, তরুণীকে গণধর্ষণের পর তাঁকে গাড়ি থেকে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। তাতে তাঁর মুখে কেটেছড়ে গিয়েছে। তার জন্য ১২টি সেলাইও পড়েছে। ঘটনার পর প্রথমে ফরিদাবাদের একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল তরুণীকে। পরে সেখান থেকে তাঁকে দিল্লির একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। আপাতত সেখানেই চিকিৎসাধীন তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, নির্যাতিতা তিন সন্তানের মা। তাঁর বয়স আঠাশ। তিনি স্বামীর সঙ্গে থাকেন না। সন্তানদের নিয়ে তিনি তাঁর বাপের বাড়িতে থাকেন। সোমবার মায়ের সঙ্গে বচসা বেধেছিল ওই তরুণীর। তার পরে রাত ৮টা নাগাদ তিনি এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে বেরিয়ে যান। ফেরার সময়ে বেশি রাত হয়ে যাওয়ায় গাড়ি পাচ্ছিলেন না তরুণী। রাস্তায় একটি ভ্যানে থাকা দু’জন তাঁকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই গাড়িতে তোলে। এর পরে ওই তরুণীর বাড়ির পথ না ধরে সেই ভ্যানটি গুরুগ্রাম-ফরিদাবাদ সড়কে ঘুরতে থাকে। পুলিশের সন্দেহ, চলন্ত গাড়িতে নয়, কোনও নির্জন স্থানে গাড়িটি দাঁড় করিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে ওই তরুণীকে।
হরিয়ানার এই ঘটনায় ফিরেছে নির্ভয়াকাণ্ডের স্মৃতি। সেটাও ছিল ডিসেম্বরের এক রাত। ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বরের রাতে দিল্লিতে বন্ধুর সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে চলন্ত বাসে গণধর্ষণ করা হয়েছিল বছর তেইশের ছাত্রীকে। চরম শারীরিক অত্যাচারের ফলে গুরুতর আহত ওই ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছিল দিন কয়েক পরে। সেই নির্ভয়া কাণ্ডের ১৩ বছর পরে এ দেশের মহিলাদের সুরক্ষা আর নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে ফরিদাবাদের এই ঘটনা।
