সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুরের পর থেকেই রাজনৈতিক এবং সামরিক টানাপড়েন অব্যাহত। তার মধ্যেই ভারত এবং পাকিস্তান একে অপরকে তথ্য দিয়ে জানাল, কার কোথায় পরমাণু কেন্দ্র রয়েছে। বৃহস্পতিবার কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে কথা হয়। সেখানেই দুই প্রতিবেশী দেশ একে অপরকে পরমাণু কেন্দ্রের হিসেবনিকেশ দিয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।
যদিও এই আদানপ্রদান নতুন নয়। দ্বিপাক্ষিক পরমাণু চুক্তি মেনেই প্রতি বছর ১ জানুয়ারি এই আদানপ্রদান করে থাকে দুই দেশ। প্রথম শুরু হয়েছিল ১৯৯২ সালে। তার পর থেকে গত তিন দশকে বিভিন্ন দু'দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সীমান্তে টানাপড়েনও চলেছে বছরের পর বছর। কিন্তু এই চুক্তি ভাঙেনি। বরাবরই বছরের প্রথম দিন পরমাণু কেন্দ্রের তালিকা বিনিময় করে থাকে দুই পড়শি দেশ।
১৯৮৮ সালে এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল দুই দেশ। তা কার্যকর চার বছর পর ১৯৯২ সালে। চুক্তি অনুযায়ী, পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, দুই দেশ একে অপরের পরমাণুকেন্দ্র আক্রমণ করবে না। এক দেশের জন্য যাতে কোনও ভাবে অপর দেশের পরমাণুকেন্দ্রের ক্ষতি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
চুক্তি অনুযায়ী, চুক্তিতে পরমাণুকেন্দ্র বলতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র, গবেষণাকেন্দ্র, জ্বালানি উৎপাদনের ইউনিট, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ ক্ষেত্র, আইসোটোপ পৃথকীকরণকেন্দ্র বোঝানো হয়। এ ছাড়া, যে সমস্ত কেন্দ্রে তেজস্ক্রিয় পদার্থ সংরক্ষণ করা থাকে, সেগুলিও এই চুক্তির আওতায় পড়ে। দেশের ঠিক কোন কোন জায়গায় এই ধরনের কেন্দ্র রয়েছে, অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ উল্লেখ করে তার নিখুঁত অবস্থান প্রতি বছর ভারত ও পাকিস্তান একে অপরকে দিয়ে থাকে।
