সোমনাথ রায়, নয়াদিল্লি: বঙ্গ সফরে এসে এপার বাংলায় পাটশিল্পের দুর্দশা নিয়ে রাজ্য সরকারকে নিশানা করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠকে তিনি অভিযোগ তোলেন, একসময়ে পাট উৎপাদনে সেরা ছিল বাংলা। ধীরে ধীরে সিপিএম আমল থেকে আজকের তৃণমূল সরকারের সময়ে তার অবনতি হতে হতে একেবারে তলানিতে ঠেকেছে। অধিকাংশ পাটকল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অথচ পাটশিল্পের দায়িত্ব আংশিকভাবে কেন্দ্রের। সেকথা মনে করিয়ে এবার কেন্দ্রকেই দুর্দশামুক্তির জন্য পালটা 'চাপ' দিল তৃণমূল। কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী গিরিরাজ সিংকে চিঠি পাঠিয়ে অবিলম্বে তিনদফা দাবি জানালেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠি।
চিঠিতে ঋতব্রতর দাবি, পাটকল ঘিরে যে অর্থনীতি গড়ে উঠেছিল, তা একেবারে ভাঙনের মুখে। বিশেষত পশ্চিমবঙ্গের পাটকল এলাকাগুলিতে চরম দুর্দিন ঘনিয়ে এসেছে। এই মুহূর্তে পাটের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ঠিকমতো পাচ্ছেন না চাষিরা, এমনই অভিযোগ ঋতব্রতর। জুটমিলগুলিতে উৎপাদন, শ্রমিকদের মজুরি সংক্রান্ত সমস্যা নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই শ্রমিক-মালিক অসন্তোষে এমন পরিস্থিতি হচ্ছিল। এছাড়া কেন্দ্রীয় নীতির কারণে পাটের বাণিজ্যিকীকরণেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। এমনই নানা কারণে পাটশিল্প আজ চূড়ান্ত দুর্দশায় পড়েছে, অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। গিরিরাজ সিংকে লেখা চিঠিতে ঋতব্রত বারবার এসব কারণের কথা উল্লেখ করেছেন। সেইসঙ্গে কোন পদক্ষেপ নিলে এই পরিস্থিতির বদল ঘটতে পারে, সেই সমাধানের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ঋতব্রতর দাবি, কাঁচাপাট সংক্রান্ত স্থিতিশীল পরিস্থিতির কথা ঘোষণা করুক কেন্দ্র। ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ঠিকমতো বণ্টন করা হোক, নির্দিষ্ট দাম ঠিক করা হোক, কৃষক ও কারখানাগুলিকে সময়মতো তাঁদের প্রাপ্য মিটিয়ে দিক কেন্দ্র। বস্ত্রমন্ত্রী গিরিরাজ সিংয়ের কাছে ঋতব্রতর দাবি, পাটশিল্প স্থিতাবস্থা আনতে, শ্রমিকদের আশ্বস্ত করতে এবং সামগ্রিকভাবে শিল্পকে পুনরুজ্জীবীত করতে প্রয়োজনীয় যা পদক্ষেপ প্রয়োজন, তা দ্রুত গ্রহণ করুন মন্ত্রী।
