লাগাতার চাপের মুখে ১০ মিনিটে ডেলিভারি সার্ভিস বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্লিঙ্কিট। এবার সেই পথেই হাঁটল জনপ্রিয় তিন ই-কমার্স সংস্থা ফ্লিপকার্ট, জেপ্টো এবং সুইগি। কেন্দ্রের নির্দেশকে মান্যতা দিয়ে তাদের প্ল্যাটফর্মে ‘১০ মিনিটে ডেলিভারি’ বিজ্ঞাপন সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তিন সংস্থা।
একাধিক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্যের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ব্লিঙ্কিট, ফ্লিপকার্ট, জেপ্টো এবং সুইগির প্রতিনিধিরা। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সংস্থাগুলির ‘১০ মিনিটে ডেলিভারি’ নীতির বিরুদ্ধে সরব হন। পাশাপাশি, এই ধরনের বিপণন কৌশল নিয়েও আপত্তি জানান তিনি। তারপরই ১০ মিনিটে ডেলিভারি সার্ভিস বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় ব্লিঙ্কিট। যদিও কেন্দ্রের তরফে এবিষয়ে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও নির্দেশিকা দেওয়া হয়নি।
গত বছরের শেষে কম মজুরি এবং ‘কুইক সার্ভিস’ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে সম্প্রতি পথে নেমেছিলেন গিগ কর্মীরা। তাঁদের দাবি ছিল, মিনিট দশেকের মধ্যে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার দ্রুততায় বহু সময় প্রাণ হারান কর্মীরা। আবার ডেলিভারি দিতে একটু দেরি হলেই দিতে হয় কড়া জরিমানা। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ, নিরাপত্তাহীন, সামাজিক সুরক্ষার অভাবের মতো বিষয়ও রয়েছে। শ্রমিকরা জানান, গিগ অর্থনীতির পরিস্থিতি ক্রমাগত খারাপ হতে থাকায় সংস্থাগুলির উপর চাপ বাড়াতেই বারবার ধর্মঘট ডাকতে হচ্ছে। তাঁদের দাবি, কারণ না দর্শিয়ে ছাঁটাই করা যাবে না। কর্মীদের পিএফ ও বিমার সুবিধা দিতে হবে। এদিকে সংসদেও আপ সাংসদ রাঘব চাড্ডা গিগ কর্মীদের নিরাপত্তার দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন। আমাজন, সুইগি, জোমাটো, জেপ্টো, ফ্লিপকার্ট, ব্লিঙ্কিটের মতো ডেলিভারি অ্যাপের কর্মীদের ডাকা ধর্মঘটকেও সমর্থন করেছিলেন। এই পরিস্থিতিতে নতুন বছরের শুরুতেই গিগ কর্মীদের জন্য মিলল সুখবর।
