বাংলা পঞ্জিকার তিথি মেনেই সর্বভারতীয় সভাপতি নির্বাচন হতে চলেছে বিজেপিতে। আগামী সোমবার, মাঘ শুক্ল পক্ষের প্রতিপদে মনোনয়ন এবং স্ক্রুটিনি হবে। আর মঙ্গলবার, দ্বিতীয়ায় হবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। আর মাস দুয়েকের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা। তা নজরে রেখেই বাংলা পাঁজি মেনে দলের সাংগঠনিক শীর্ষপদে নির্বাচনের করার কথা ভাবা হয়েছে বলে মত দলের একটি সূত্রের।
২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার থেকে বাংলা ক্যালেন্ডারের দশম মাস মাঘ শুরু হয়েছে। লক্ষ্মীবারেই সূচনা হয়েছে মাঘ মাসের। পৌষ জুড়ে মল মাস পালন করার পর এই মাস থেকেই পুনরায় তিথি মেনে নানা শুভ কাজ সম্পন্ন করার চল দেখা যায়। মাঘ মাসেই পূজিত হন দেবী সরস্বতী। বিজেপির এক রাজ্য নেতার কথায়, "বাঙালি হিন্দুদের কাছে মাঘ মাস শুভ। এই মাসে নতুন সভাপতি নির্বাচিত হলে দলের শ্রীবৃদ্ধি হবেই। বাংলার ভোটেই তার প্রতিফলন দেখা যাবে।"
মাস দুয়েকের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা। তা নজরে রেখেই বাংলা পাঁজি মেনে দলের সাংগঠনিক শীর্ষপদে নির্বাচনের করার কথা ভাবা হয়েছে বলেই মত দলের একটি সূত্রের।
নির্বাচনের কথা বলা হলেও, প্রথাগত ভাবে বিজেপির জাতীয় সভাপতি পদের লড়াই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে এসেছেন একমাত্র মনোনয়ন জমা দেওয়া প্রার্থীই। এবার একমাত্র প্রার্থী হিসাবে বিজেপির সভাপতি পদে মনোনয়ন জমা দিতে চলেছেন বর্তমান কার্যকরী সভাপতি নিতিন নবীন। আগামী ১৯ জানুয়ারি, সোমবার প্রতিপদে তিনি মনোনয়ন জমা দেবেন। মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় দুপুর ২টো থেকে বিকেল ৪টে। তার আগে ১৬ জানুয়ারি অর্থাৎ, শুক্রবার ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে।
পদ্মশিবির সূত্রের খবর, সব মিলিয়ে তিন সেট মনোনয়ন জমা হবে নিতিনের নামে। একটি সেটে স্বাক্ষর করবেন কুড়িটিরও বেশি রাজ্যের সভাপতিরা। দ্বিতীয় সেটে সই খাকবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের মতো কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের। তৃতীয় সেটে নবীনের নাম প্রস্তাব করবেন দলের জাতীয় পরিষদের সদস্যেরা। বিজেপি জানিয়েছে, সোমবার মনোনয়ন জমা পড়ার পরেই স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়া হবে। বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা, এই সময়টুকু রাখা হয়েছে মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য।
যদিও বিজেপি সূত্রের মত, নির্বাচনের নিয়ম মেনে এই সময় বরাদ্দ করা হয়েছে। আদতে এর প্রয়োজন পড়বে না, কারণ সভাপতি পদে নিতিন ছাড়া আর কারও নামে মনোনয়ন জমা পড়ার সম্ভাবনা নেই। মনোনয়ন এবং স্ক্রুটিনি পর্ব শেষ হওয়ার পর সাংবাদিক বৈঠক করবেন দলীয় নির্বাচনী আধিকারিক। এর পর আগামী মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে দলের সদর দপ্তর থেকে নতুন সভাপতির নাম ঘোষণা করা হবে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, নিতিনের কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলে ভোট হবে। না হলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিতিনের নাম ঘোষণা হবে।
৪৫ বছরের নিতিন বিজেপির সর্বকনিষ্ঠ সভাপতি হতে চলেছেন। এতে খানিক ক্ষুব্ধ বিজেপির দ্বিতীয় সারির নেতারা। অনেকের আশঙ্কা, নিতিন সভাপতি হলে দলের মধ্যে তথাকথিত অল্পবয়সি নেতাদের দাপটে ধর্মেন্দ্র প্রধান, ভূপেন্দ্র যাদব, অশ্বিনী বৈষ্ণব, নির্মলা সীতারামনের মতো দ্বিতীয় সারির বিজেপি নেতানেত্রীরা গুরুত্বহীন হয়ে পড়তে পারেন। ফলে নিতিনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, এই সব দ্বিতীয় সারির নেতার ক্ষোভ প্রশমিত করা।
সভাপতি হিসেবে নিতিনের দায়িত্ব গ্রহণের কিছু দিনের মধ্যে পাঁচ রাজ্যে নির্বাচন ঘোষণা হতে চলেছে। এর মধ্যে অসম ও পুদুচেরি ছাড়া বাকি তিন রাজ্যে বিজেপির পক্ষে ক্ষমতায় আসা দুষ্কর বলেই অভিমত অনেকের। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গকেই ‘পাখির চোখ’ করেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। অতীতে বার বার ‘বঙ্গ বিজয়ের’ চেষ্টা করেও তারা ব্যর্থ হয়েছে। নতুন সভাপতির হাত ধরে সেই অধরা স্বপ্ন আদৌ পূরণ হয় কি না, তা-ই এখন দেখার।
